০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:০৯

বিসিএস কখনো আমার পছন্দের তালিকায় ছিলই না, শুধু অথর্ব নই প্রমাণের জন্য পরীক্ষায় বসেছিলাম

নায়লা শারাফ  © সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রকৌশলী ও ব্যাংকার হিসেবে চাকরি করেছেন নায়লা শারাফ। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণও হয়েছিলেন তিনি। তবে এসব চাকরি ও বিসিএস ক্যাডারের সুযোগ ছেড়ে বর্তমানে নেত্রকোনা সদর উপজেলার পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তাকে নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য ছড়ানোর পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন নায়লা।

গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বিসিএস কখনোই তার পছন্দের তালিকায় ছিল না। শুধু নিজের যোগ্যতা নিয়ে যেন কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে, সে কারণেই বিসিএস পরীক্ষায় বসেছিলেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে নায়লা লিখেছেন, ‘আমাকে নিয়ে যারা স্ক্রল করছেন তারা অথেনটিক নিউজ নিয়ে লিখুন। আমি বুয়েটের স্টুডেন্ট ছিলাম। জব করেছি অনেক। কিন্তু বিসিএস জব করিনি। যা মিথ্যা তা সবসময় মিথ্যা। আমার প্রাপ্তি টুকুকে কালিমালিপ্ত করবেন না।’

তিনি বলেন, ‘বিসিএস কখনো আমার পছন্দের তালিকায় ছিলই না। শুধু আমি অথর্ব নই এটা প্রমাণের জন্য পরীক্ষায় বসেছিলাম। যাতে কেউ বলতে না পারে যে আমার যোগ্যতা নেই।’

নিজের ফেসবুক পোস্টে নায়লা আরও লেখেন, ‘অনেকের মতে সবাই অন্য কোনো জব না পেয়ে প্রাইমারিতে আসে। আর আমি অন্য জব ছেড়ে দিয়ে এখানে এসেছি। আর আমার স্কুল কোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলে নয়,নেত্রকোণা সদর উপজেলায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার এই ত্যাগ স্বীকারকে, আমার পরিবার এর এই ত্যাগ কে কালিমালিপ্ত করবেন না ভুল তথ্য প্রচার করে। সকলের প্রতি অনুরোধ রইল।’

এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে নায়লার পেশাগত জীবনের নানা তথ্য উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি করেন। পরে জনতা ব্যাংকে এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে যোগ দেন। তবে এসব চাকরির কোনোটিই শেষ পর্যন্ত তাকে ধরে রাখতে পারেনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেননি।

পরবর্তীতে নায়লা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। গত সাত বছর ধরে তিনি নেত্রকোনা সদর উপজেলার পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিশুদের পড়ানো এবং তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাকেই তিনি নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।