২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:০৩

ঈদের দিনে রিডিং রুমে অঝোরে কান্না, পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে টিউশনি—সেই ছেলেটিই আজ সিভিল জজ

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসান মাহমুদ।  © টিডিসি সম্পাদিত ছবি

১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসান মাহমুদ। তার এই সফলতার পথ ছিলো অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ। অসংখ্য ত্যাগ, দিন-রাত এক করে পরিশ্রম এবং সফল হওয়ার জন্য সবকিছুর আড়ালে চলে যাওয়ার গল্প রয়েছে তার জীবনে। হার না মানা এই স্বপ্নবাজের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহম্মদ সজীব প্রধান। 

হাসান মাহমুদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস’কে বলেন, ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের ওয়েবসাইটে নিজের রোল নম্বরটি খুঁজে পাওয়ার মুহূর্তটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। রোল নম্বরটি দেখতে পাওয়ার পর দুচোখ দিয়ে শুধু পানি ঝরছিল। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতায় সিজদায় পড়ে গিয়েছিলাম। তখন আমার মা-বাবা কেউই আমার কাছে ছিলেন না। আমি ঢাকায় ছিলাম। তাঁরা কাছে থাকলে হয়তো তাঁদের শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলতাম—‘তোমার ছেলে জজ হয়েছে, তোমার ডাক আল্লাহ কবুল করেছেন।’ সেদিনের অনুভূতিটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, কষ্ট, ব্যর্থতা, অনিশ্চয়তা—সবকিছু যেন এক মুহূর্তে অর্থবহ হয়ে উঠেছিল।’

ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি মোটামুটি ভালো মানের ছাত্র ছিলাম। পঞ্চম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় থানায় দ্বিতীয় হয়েছিলাম। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও বিভিন্ন সেমিস্টারে প্রথম ও দ্বিতীয় হওয়ার সুযোগ হয়েছে। গ্রাজুয়েশন শেষে প্রথমে বিসিএসের প্রস্তুতি নিই। ৪৪তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিই। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায়ও দুইবার ভাইভা দিই। এরপর ১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথমবার অংশগ্রহণ করি। তবে ভাইভা পর্যন্ত যেতে পারিনি। প্রথমবারের ব্যর্থতার পর আমি বসে থাকিনি। বরং কোথায় ভুল করেছি, সেটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি।

আমার সংগ্রামের গল্প আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগেই শুরু হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আমি দিনাজপুরে কোচিং করতাম। সেই সময় দুই ঈদেও বাড়িতে যাইনি। আমার মা অনেক কান্নাকাটি করেছিলেন ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য। কিন্তু আমি যাইনি। শেষ পর্যন্ত আমার ছোট ভাইকে দিয়ে মা কোরবানির মাংস আমার মেসে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।

আমি কয়েকটি বিষয় চিহ্নিত করি—লিখিত পরীক্ষায় অপশনাল-২ নির্বাচন করা, জেনারেল অংশকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়া, উত্তরপত্রে পর্যাপ্ত ডাটা, চার্ট ও কেস না দেওয়া এবং বিগত বছরের প্রশ্ন সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না রাখা। আমি ব্যর্থতাকে মেনে নিয়ে ভুলগুলো সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নিই। ১৭তম বিজেএসে যে জায়গাগুলোতে ঘাটতি ছিল, ১৮তম বিজেএসে সেগুলোতেই বেশি গুরুত্ব দিই। ১৭তম বিজেএসে অপশনাল-২ নেওয়া আমার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না। ১৮তম বিজেএসে আমি অপশনাল-১ নির্বাচন করি। একই সঙ্গে জেনারেল অংশে জোর দিই, উত্তরপত্রে প্রয়োজনীয় ডাটা, চার্ট ও কেস ব্যবহারে মনোযোগী হই এবং বিগত বছরের প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করি। আমার কাছে মনে হয়েছে, আগের ভুলগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সংশোধন করাই দ্বিতীয়বারের প্রস্তুতিকে সফল করার অন্যতম কারণ।’

জজ হওয়ার স্বপ্নে ঈদও বিসর্জন দিয়েছেন—এমন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার সংগ্রামের গল্প আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগেই শুরু হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আমি দিনাজপুরে কোচিং করতাম। সেই সময় দুই ঈদেও বাড়িতে যাইনি। আমার মা অনেক কান্নাকাটি করেছিলেন ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য। কিন্তু আমি যাইনি। শেষ পর্যন্ত আমার ছোট ভাইকে দিয়ে মা কোরবানির মাংস আমার মেসে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এভাবেই ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে এবং গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাই। আইনের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে পড়ার সময়ও আমার সামনে আর্থিক সংগ্রাম ছিল। কলেজজীবন থেকেই নিজের পড়াশোনার খরচ নিজে চালানোর চেষ্টা করেছি। পরিবারের পক্ষে সব খরচ বহন করার মতো আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে চলার মতো টাকা, থাকার মতো জায়গা কিংবা পরিচিত কোনো মানুষ—কিছুই ছিল না। বড় ভাইদের সহায়তায় গণরুমে থাকার সুযোগ পাই।’

৯০০ টাকার টিউশনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের কথা এখনো স্পষ্ট মনে আছে। মাত্র ৯০০ টাকায় প্রথম টিউশনি করেছিলাম। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ হেঁটে হেঁটে টিউশনিতে যেতে হতো। আজ যখন সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে, শরীরে কাঁটা দিয়ে ওঠে। কারণ তখন হয়তো বুঝিনি, কিন্তু এখন বুঝি—সেই ছোট ছোট ত্যাগই আমাকে ধীরে ধীরে তৈরি করেছে। ঈদে যখন সবাই বাড়ি চলে যেত, আমি যেতে পারতাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের রিডিং রুমে বসে পড়তাম। অনেক সময় সেখানে বসেই কান্না করতাম। আবার চোখের পানি মুছে পড়াশোনা চালিয়ে যেতাম। করোনার সময়ও যখন অনেকেই বাড়ি চলে গিয়েছিল, তখনও আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে যাই। আমার সামনে তখন একটি মাত্র লক্ষ্য ছিল—একটি স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। সেই স্বপ্নের জন্য চোখ-মুখ বন্ধ করে কষ্টগুলো সহ্য করেছি।’

একদিন এক বন্ধুকে নিয়ে গোপালগঞ্জ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে যাই। রেজাউল করিম বাঁধন স্যারের আদালতে কিছুক্ষণ বসে বিচারকার্য দেখছিলাম। বিচারক আদালতে প্রবেশ করার পর সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেন। শুনানি হলো। একপর্যায়ে একজন ব্যক্তিকে জামিন দেওয়া হলো। জামিন পাওয়ার পর তাঁর চোখেমুখে যে আনন্দ দেখেছিলাম, তা আমাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।

একজন বিচারকের ভূমিকা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘অনার্স শেষে বিসিএস ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরীক্ষায় চেষ্টা করছিলাম। কয়েকটি পরীক্ষায় ভালো প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও সফলতা আসছিল না। ঠিক সেই সময় একদিন এক বন্ধুকে নিয়ে গোপালগঞ্জ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে যাই। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম বাঁধন স্যারের আদালতে কিছুক্ষণ বসে বিচারকার্য দেখছিলাম। বিচারক আদালতে প্রবেশ করার পর সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেন। কয়েকটি শুনানি হলো। একপর্যায়ে একজন ব্যক্তিকে জামিন দেওয়া হলো। জামিন পাওয়ার পর তাঁর চোখেমুখে যে আনন্দ দেখেছিলাম, তা আমাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। আমি অবাক হয়ে বিচার বিভাগের একজন বিচারকের দায়িত্ব ও মর্যাদা উপলব্ধি করছিলাম। আদালতের কার্যক্রম শেষে অনুমতি নিয়ে স্যারের খাস কামরায় গিয়ে দেখা করি। তিনি আমাকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেন এবং সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলেন, কেন আমার বিসিএসের পাশাপাশি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের কথা ভাবা উচিত। সেদিনই আমি সিদ্ধান্ত নিই—আমি বিজেএস পরীক্ষা দেব।’

নিজেকে আড়াল করেই ১৭তম বিজেএসের প্রস্তুতি নিয়েছেন—এমন কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিজেএসের প্রস্তুতি শুরু করতে হলে আমাকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে শুরু করতে হবে—এটা আমি বুঝতে পেরেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আমার অনেক পরিচিত বন্ধু, ছোট ভাই ও শুভাকাঙ্ক্ষী ছিল। তাই নিজেকে পুরোপুরি পড়াশোনার মধ্যে ডুবিয়ে দিতে আমি পরিচিত পরিবেশ থেকে দূরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। ২০২৪ সালের শুরুতে সবাইকে জানাই যে আমি গোপালগঞ্জ ছেড়ে ঢাকায় চলে যাচ্ছি। কিন্তু বাস্তবে ঢাকায় না গিয়ে গোপালগঞ্জের গ্রামের একটি নিরিবিলি এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকা শুরু করি। এমনকি আমার সবচেয়ে কাছের ছোট ভাই তুহিনও জানত না যে আমি আসলে গোপালগঞ্জেই আছি। সেও মনে করত আমি ঢাকায় চলে গেছি। সেখান থেকেই ১৭তম বিজেএসের প্রস্তুতি শুরু করি। আলহামদুলিল্লাহ, সেখান থেকেই প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত হতে পারিনি। তবে এবারও আমি ব্যর্থতাকে শেষ হিসেবে দেখিনি। বরং কোথায় আরও উন্নতি করা যায়, সেটি নিয়ে কাজ করেছি।’

চাকরির পাশাপাশি পরীক্ষার প্রস্ততি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৭তম বিজেএসে সফল না হওয়ার পর ঢাকায় চলে আসি। চাকরিতে যোগ দিই। এরপর চাকরির পাশাপাশি ১৮তম বিজেএসের প্রস্তুতি শুরু করি। এবার আমার সামনে আগের অভিজ্ঞতা ছিল। আমি জানতাম কোথায় ভুল হয়েছিল, কোন জায়গায় বেশি গুরুত্ব দিতে হবে এবং কীভাবে উত্তরপত্রকে আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপন করতে হবে। চাকরি ও পড়াশোনা একসঙ্গে চালানো সহজ ছিল না। কিন্তু আগের সংগ্রাম আমাকে মানসিকভাবে অনেক বেশি শক্ত করে দিয়েছিল। আমি জানতাম, এবারও যদি চেষ্টা করি, তাহলে আগের ভুলগুলো পুনরাবৃত্তি করা যাবে না। তাই নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘অবশেষে সেই অপেক্ষারও শেষ হলো। ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় আমি সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, নিজের দীর্ঘদিনের সংগ্রামকে সফলতায় রূপ দিতে পেরেছি। আমার কাছে এই সাফল্য শুধু একটি চাকরি পাওয়ার ঘটনা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য নির্ঘুম রাত, ঈদে বাড়ি যেতে না পারা, রিডিং রুমে বসে অঝোরে কান্না করা, পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে টিউশনি পড়ানো, আর্থিক সংকট, একাধিক পরীক্ষায় ব্যর্থতা এবং বারবার নতুন করে শুরু করার গল্প।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নিন। সুযোগ থাকলে টিউশনি করুন। গণিত, বিজ্ঞান, বাংলা ও ইংরেজির বেসিক শক্ত করার জন্য টিউশনি অনেক সহায়ক হতে পারে। বিজেএসের জেনারেল অংশকে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়।

আইন শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেছেন, যারা বর্তমানে আইন পড়ছেন, তাঁদের উদ্দেশে আমি একটি কথা বলতে চাই—বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নিন। সুযোগ থাকলে টিউশনি করুন। গণিত, বিজ্ঞান, বাংলা ও ইংরেজির বেসিক শক্ত করার জন্য টিউশনি অনেক সহায়ক হতে পারে। বিজেএসের জেনারেল অংশকে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। আইন বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের আইনভিত্তিক প্রস্তুতি অনেকটা কাছাকাছি থাকলেও জেনারেল অংশ আপনাকে অন্যদের থেকে এগিয়ে দিতে পারে। আরেকটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ—অনার্স শেষ করার পর অন্তত এক বছর নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করার মতো অর্থ সঞ্চয় করে রাখুন। অনার্স শেষে পার্টটাইম চাকরি বা অন্য কাজের পাশাপাশি জুডিশিয়ারির প্রস্তুতি নেওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল হলেও সবসময় আগের মতো সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব হয় না। 

তাই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই নিজের জন্য কিছু সঞ্চয় রাখা জরুরি। টিউশনির টাকা থেকে যতটা সম্ভব সঞ্চয় করুন। লক্ষ্য রাখুন, অনার্স শেষে অন্তত এক বছর যেন আর্থিক দুশ্চিন্তা ছাড়া পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারেন। আমি বিশ্বাস করি, স্বপ্ন পূরণের জন্য শুধু মেধা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সঠিক সিদ্ধান্ত, নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার মানসিকতা, ধারাবাহিক পরিশ্রম এবং ত্যাগ স্বীকারের সাহস। আমি আমার জীবনের সংগ্রামকে সফলতায় রূপ দিতে পেরেছি—আলহামদুলিল্লাহ। এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

জুডিশিয়ারির লিখিত প্রস্তুতি: বাংলা নাকি ইংরেজি? প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘যারা জুডিশিয়ারি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের মধ্যে একটি কমন কনফিউশন থাকে—লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি বাংলায় নেব, নাকি ইংরেজিতে? আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলব—আমি নিজেই বাংলায় লিখিত পরীক্ষা দিয়ে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে (বিজেএস) সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। শুধু আমি নই, বাংলায় লিখে অনেকেই মেধাতালিকার প্রথম দশজনের মধ্যে স্থান অর্জন করেছেন। তাই আমার পরামর্শ হলো—লিখিত পরীক্ষায় আপনি বাংলা না ইংরেজি, কোন ভাষা ব্যবহার করছেন—এটি মূল বিষয় নয়। মূল বিষয় হলো, আপনি যে ভাষাতেই লিখুন না কেন, সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা বা বিধানের মূল উপাদানগুলো সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারছেন কি না, প্রয়োজনীয় উদাহরণ দিতে পারছেন কি না এবং যথাযথভাবে কেইস রেফারেন্স দিতে পারছেন কি না। পরীক্ষকের কাছে আপনার উত্তরের ভাষার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার আইনগত জ্ঞান, বিশ্লেষণী দক্ষতা, উপস্থাপনার স্বচ্ছতা এবং প্রাসঙ্গিক কর্তৃত্বপূর্ণ রেফারেন্সের সঠিক ব্যবহার। অতএব, কোন ভাষায় লিখবেন—এ নিয়ে অযথা দ্বিধায় না থেকে যে ভাষায় আপনি সবচেয়ে সাবলীল, নির্ভুল ও গুছিয়ে আইনগত বিষয় উপস্থাপন করতে পারেন, সেই ভাষাকেই আপনার শক্তি হিসেবে কাজে লাগান।’