২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:৩০

‘আমার মা রোজা রাখতেন’—সিভিল জজে সুপারিশপ্রাপ্ত গণি

সিভিল জজে সুপারিশপ্রাপ্ত গণি  © সৌজন্য প্রাপ্ত

সকাল থেকেই অপেক্ষা করছিলেন মোহাম্মদ রেজওয়ানুল ইসলাম গণি। শুনেছিলেন, বুধবার ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে। কমিশনের বৈঠকের কথা শুনে সকাল থেকেই মনের মধ্যে অস্থিরতা আর টেনশন কাজ করছিল। একপর্যায়ে সেই উৎকণ্ঠা ভাগ করে নেন কাছের মানুষদের সঙ্গে। একে একে বন্ধুদের মেসেজ দেন। অপেক্ষার সেই সময়টুকুতে পাশে ছিলেন বন্ধুরা, শিক্ষক ও পরিবারের সদস্যরা। দিন শেষে সেই অপেক্ষার অবসান হয়—সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন তিনি। মেধাক্রমে তাঁর অবস্থান ১০৪তম।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্তদের তালিকায় তাঁর নাম আসে। রেজওয়ানুল ইসলাম গণি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইন বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ পরীক্ষায় কুবির আরও তিন শিক্ষার্থী শামীম আহমেদ, নাজমুল হাসান ও নাঈমা আক্তার কলি সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

সাফল্যের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রেজওয়ানুল বলেন, বিজেএসের ফল প্রকাশের দিন সকাল থেকেই তাঁর মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছিল। সেই সময়ে বন্ধু রুবাইয়াত আল মাহিম, নাজমুল, মামুন, বায়েজিদ, আবদুল্লাহসহ কাছের মানুষদের মেসেজ দেন। তাঁদের পাশাপাশি এমন একজন প্রিয় মানুষও ছিলেন, যিনি পুরো যাত্রায় নীরবে পাশে থেকেছেন বলে জানান তিনি।

শিক্ষক সোহরাব স্যারের কথাও বিশেষভাবে মনে পড়ছে গণির। প্রস্তুতির সময়ে প্রায়ই তাঁকে বিরক্ত করে শুধু দোয়া চাইতেন। স্যার তখন মজা করে বলতেন, ‘তুমি হয়ে যাবে, আমার বিশ্বাস।’ সেই বিশ্বাসের কথাও সাফল্যের দিনে মনে পড়ছে তাঁর।

তবে এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় প্রেরণা হিসেবে বাবা-মায়ের কথা বলছেন গণি। তাঁর ভাষায়, বাবা-মাকে পৃথিবীর সবকিছু এনে দিলেও তাঁদের হয়তো পুরোপুরি খুশি করা সম্ভব নয়। কিন্তু ছেলেকে বিচারক হিসেবে দেখতে পারার অনুভূতি তাঁদের কাছে অন্যরকম। ছোটবেলা থেকে বাবার একটি কথা মনে গেঁথে ছিল তাঁর। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম হলেও বাবা বলতেন, ‘জজ হলে আমি খুশি হব।’

মায়ের দোয়ার কথাও বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে গণি বলেন, তাঁর মা সন্তানের সাফল্যের জন্য অনেক রোজা রেখেছেন, নফল ইবাদত করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, মায়ের সেই দোয়া আল্লাহ কবুল করেছেন।

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শামীম আহমেদ ২০১৪–১৫, নাঈমা আক্তার কলি ২০১৭–১৮ এবং রেজওয়ানুল ইসলাম গণি ও নাজমুল হাসান ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।