২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৩২

মাস্টার্সের গণ্ডি পেরোনোর আগেই সিভিল জজ ইবির রাজু

রাজু আহমেদ  © টিডিসি ফটো

মাস্টার্স শেষ হওয়ার আগেই সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ। তিনি ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় মেধাক্রমে ২৬তম করেছেন। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল ফিকহ এন্ড ল বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং রাজু বর্তমানে স্নাতকোত্তর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত আছেন।

গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে সারা দেশ থেকে ২০০ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ১৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে আইন বিভাগের ১৪ জন, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ৪ জন এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন রাজু।

এ সফলতায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুকে করে রাজু আহমেদ লিখেছেন, স্বপ্ন পূরণের পথটা মোটেও সহজ ছিল না। সময়টা তখন ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, বাংলাদেশের বিজয় দিবস। সেদিন থেকেই মনে মনে একটি স্বপ্ন বুনেছিলাম ১৮তম বিজেএসে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হতে হবে। এই দীর্ঘ যাত্রায় জীবনের অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হয়েছে, অনেক কিছু থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হয়েছে। তবে প্রতিটি কঠিন সময়ে পাশে পেয়েছি আমার মা-বাবা, বোন, দুলাভাই, মামা, বন্ধুবান্ধব, শিক্ষক, প্রিয়জন ও বড় ভাইদের। তাঁদের দোয়া, ভালোবাসা, সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা আমাকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যেতে সাহস দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ১৭তমে স্বামী, ১৮তমে স্ত্রী—বিজেএসে দুজনই তৃতীয়

তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তাআলা আমাকে আমার প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি দান করেছেন। তার এই অশেষ রহমত ও মেহেরবানির জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। এই অর্জন শুধু আমার একার নয়। আমার এই পথচলায় যারা কোনো না কোনোভাবে পাশে ছিলেন, সাহস দিয়েছেন, উৎসাহ দিয়েছেন, দোয়া করেছেন কিংবা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছেন প্রত্যেকের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমার জন্য দোয়া করবেন। আপনাদের দোয়ায় যেন আল্লাহ আমাকে কবুল করেন, ন্যায় ও সত্যের পথে অটল রাখেন এবং একজন সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও দায়িত্বশীল বিচারক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার তাওফিক দান করেন।

রাজু জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই ইচ্ছা ছিল জজ হওয়ার। প্রথম থেকে পড়াশোনা করার ইচ্ছা থাকলেও সেভাবে পারিনি। মূলত বিজেএসের জন্য পড়াশোনাটা শুরু করছিলাম থার্ড ইয়ার থেকে। কিন্তু মাস্টার্স চলমান থাকায় একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বিজেএস এর পড়াও সমানভাবে ব্যালেন্স করে চালিয়ে যাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। 

নবীনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নতুনদের জন্য উপদেশ থাকবে যে, শর্টকাট পড়াশোনা বাদ দিতে হবে, বিস্তারিতভাবে ও ভালো ভালো বইগুলো পড়তে হবে। আমি ভালো ভালো লেখকের বই থেকে পড়েছি এবং বিস্তারিতভাবে পড়েছি।  

আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আলতাফ হোসেন বলেন, রাজুর সফলতায় বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সবাই অত্যন্ত আনন্দিত। সে যথেষ্ট বিনয়ী ও ভদ্র ছেলে, আল্লাহ তার ওপর রহম করেছেন। তার প্রচেষ্টাগুলো বিভাগের বাকি শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। সে যেন তার জীবনে উত্তরোত্তর সফলতা অর্জন করে এই কামনা করি। বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন। ‎