২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৩৯

একই রুম থেকে জজ হলেন ইবির তিন শিক্ষার্থী 

একইরুম থেকে জজ হওয়া তিন শিক্ষার্থী  © সংগৃহীত

অনেকেই বলে থাকেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থেকে নাকি ভালোভাবে পড়াশোনা করা যায় না। কিংবা অনেকের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে নেই পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ। কিন্তু এবারে সেই ধারণাকে ভেঙে দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হলের একই রুম থেকে জজ হয়েছেন তিন শিক্ষার্থী ও রুমমেট। 

তারা হচ্ছেন - ১৬তম জুডিশিয়াল সার্ভিসের আরিফ হোসেন এবং ১৮তম জুডিশিয়াল সার্ভিসের অ্যাডভোকেট শাকির আলম ও আনোয়ার হোসেন। তারা তিনজনেই সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নং কক্ষে থাকতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের সাধারণ একটি রুমে থেকেও যে আকাশছোঁয়া স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব, তা তারা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। 

সুপারিশপ্রাপ্ত শাকির আলম বলেন, মহান আল্লাহ তা'আলার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। টানা দুই বার ব্যর্থ হওয়ার পরও হাল ছাড়িনি। তৃতীয়বারের চেষ্টায় উত্তীর্ণ হয়েছি। কুরআনের সেই আয়াত মনে পড়ে যায় যে, শিগগিরই তোমার রব তোমাকে এত বেশি দিবেন যে তুমি খুশি হয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই আমার ইচ্ছে ছিল যে একদিন বিচারক হয়ে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবো। পরিবার ও সমাজের এ ব্যাপারে উৎসাহিত করতে অবদান আছে। পাশাপাশি উৎসাহিত হয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই-আপুদের সুপারিশপ্রাপ্ত হতে দেখে। আমার সবচেয়ে বড় ভালো লাগা সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর রুম থেকে আমরা তিনজনই জজ হয়েছি।’

আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হালিমা খাতুন বলেন, ‘আমাদের বিভাগ প্রতিবছরই জুডিশিয়ারিতে ভালো করে থাকে। এবার আরও ভালো করেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে আশাকরি। যারা জুডিশিয়ারিকে প্রোফেশন হিসেবে নিতে চায় তাদের গাইডলাইন দেয়া থেকে শুরু করে তাদের বেজলাইন দৃঢ় করতে আমরা কাজ করবো। জুডিশিয়ারি একটা মহৎ পেশা। আমাদের বিভাগের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। অন্যদিকে তিন রুমমেট বন্ধু জজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। তারা ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। তারা আমাদের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’

আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। তাতেই পাওয়া যায় ইবির এই তিন রুমমেটের কৃতিত্বের খবর।