০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৪৪

মাত্র ১০ মাসে কোরআনের হাফেজ ৯ বছরের শিশু

শিশু আরহাম ভূঁইয়া  © সংগৃহীত

পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা হেফজ সম্পন্ন করতে সাধারণত কয়েক বছর সময় লাগে। সেখানে মাত্র ১০ মাসেই কোরআন মুখস্থ করেছে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৯ বছরের শিশু আরহাম ভূঁইয়া।

আরহাম উপজেলার ১৩ নম্বর মায়ানী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম মায়ানী গ্রামের গণি ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা। তিনি ওহিদুল ইসলাম ভূঁইয়ার ছেলে। স্থানীয় দারুন নাজাত আইডিয়াল মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি হেফজ সম্পন্ন করেন।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, আরহাম ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর হেফজ শিক্ষা শুরু করে ২০২৬ সালের ৩০ জুন মাসে মাত্র ১০ মাসে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করার গৌরব অর্জন করে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রতিদিন ১ থেকে ২ পৃষ্ঠা মুখস্থ করত, সেখানে আরহাম নিয়মিত ৪ থেকে ৭ পৃষ্ঠা পর্যন্ত মুখস্থ করে শুনাত। তার অসাধারণ মেধা, একাগ্রতা, অধ্যবসায় ও শিক্ষকদের নিবিড় তত্বাবধানের ফলেই এত অল্প সময়ে এই বিরল কৃতিত্ব অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে জানায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

দারুন নাজাত আইডিয়াল মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা শোয়াইব জানান, আরহামের এই সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাব্যবস্থারও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। চলতি বছর আরও ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী হেফজ সম্পন্ন করবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

হাফেজ আরহাম ভূঁইয়া সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে আমি অল্প সময়ে পবিত্র কোরআনের হেফজ সম্পন্ন করতে পেরেছি। আমি ভবিষ্যতে একজন হাক্কানি আলেম হতে চাই এবং সারাজীবন কোরআনের খেদমত করতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

আরহামের বাবা ওহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আমার একমাত্র ছেলেকে ছোটবেলা থেকেই কোরআনের পথে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সেই আশা পূরণ করেছেন। আমি মাদ্রাসার পরিচালক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার প্রত্যাশা, আমার ছেলে বড় হয়ে একজন যোগ্য ও হাক্কানি আলেম হবে এবং কোরআন-সুন্নাহর আলো সমাজে ছড়িয়ে দেবে।

আরহামের শিক্ষক হাফেজ মাওলানা কেফায়েত উল্ল্যাহ বলেন, আরহাম অত্যন্ত মেধাবী, মনোযোগী ও পরিশ্রমী একজন শিক্ষার্থী। শুরু থেকেই সে অন্যদের তুলনায় বেশি সবক প্রস্তুত করত। প্রতিদিন ৪ থেকে ৭ পৃষ্ঠা পর্যন্ত মুখস্থ করে শুনাত। তার নিষ্ঠা, পরিশ্রম এবং মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের কারণেই মাত্র ১০ মাসে হেফজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে।