ইন্টারভিউয়ের আগেই মায়ের মৃত্যু, শোক সামলে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ২৬তম রুপল
ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা হচ্ছে ম্যারাথন। সে ম্যারাথনের শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আরও গুরুত্বপূর্ণ হল শেষটা। শুরুতে ধাক্কা খেয়ে, চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে সবকিছু সামলে যাঁরা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন, তাঁরাই সফল হন। তেমনই একজন হলেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের বাগপতের মেয়ে রূপল রানা।
টানা তিনবার ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ধাক্কা খেয়েছিলেন। তবুও হাল ছাড়েননি। নতুন করে চতুর্থ অ্যাটেম্পটে বসেছিলেন। কিন্তু ইন্টারভিউয়ের ঠিক দুমাস আগে মায়ের মৃত্যু হয়। সে ধাক্কা সামলে ২০২৩ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় ২৬তম স্থান অধিকার করেন রূপল। হয়েছেন আইএএস অফিসার।
পরপর তিনবার কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ার পরে রূপল বুঝতে পারেন, শুধু বই পড়েই ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা পাস করা যায় না। প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণের সঠিক পদ্ধতি জানা জরুরি। সেজন্য গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে শুরু করেন বিগত বছরের প্রশ্নপত্র। ইউপিএসসি কীভাবে প্রশ্নের ‘ফাঁদ’ তৈরি করে বা ‘জাল’ বিছিয়ে রাখে, তা তিনি বুঝতে পারেন।
সে রেশ ধরে মক টেস্ট দেওয়ার সময় স্ট্র্যাটেজি বদলে ৯০টির বেশি প্রশ্ন উত্তর করার অভ্যেস গড়ে তোলেন রূপল। এ সামান্য পরিবর্তনই ভাগ্য বদলে দেয়। চতুর্থ প্রচেষ্টায় যখন প্রিলিমসের প্রশ্নের প্যাটার্ন বদলে গিয়েছিল। তখনও রূপল ৯৪টি প্রশ্ন অ্যাটেম্পট করেছিলেন। ফলাফল হয় অভাবনীয়! প্রিলিমসের কাট-অফ নম্বরের চেয়ে তিনি ২৩ নম্বর বেশি পেয়ে সহজেই উত্তীর্ণ হন।
আরও খবর: শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছিনতাই, আটক ১
সাফল্যের তিন সূত্র
রূপল বিশ্বাস বলেন, নতুন বইয়ের পাহাড় না জমিয়ে সীমিত সংখ্যক মানসম্মত বই বারবার রিভিশন করাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। মেইনস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি ছিল অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট।
১. শর্ট নোটস তৈরি: প্রতিটি টপিকের ওপর এক বা দুই পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত নোট বানানো, যেখানে সমস্যা, তার সমাধান করা। সাম্প্রতিক ঘটনার উদাহরণও ছিল নোটে।
২. এথিক্স পেপার: এথিক্সে ভালো নম্বর পেতে রামায়ণ, মহাভারত এবং মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ ও ঘটনাপ্রবাহের উদাহরণ নিখুঁতভাবে ব্যবহার করেন।
৩. অপশনাল সাবজেক্ট: কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সের ওপর জোর দিতে নিয়মিত খবর পড়তেন। আন্তর্জাতিক কূটনীতি বুঝতে সব খুঁটিয়ে শুনতেন। খবর: হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা।