৪৫তম বিসিএসে ব্যর্থ হয়ে ফেসবুকের পিনপোস্টে শুভ লিখেছিলেন— ‘অচিরেই আপনার রব এত দান করবেন, আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন’
৪৫তম বিসিএসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ার পর হতাশায় ভেঙে পড়েছিলেন হামিদুল ইসলাম শুভ। তবে সেই হতাশার মধ্যেও আল্লাহর প্রতি আস্থা হারাননি। নিজের ফেসবুক প্রোফাইলের পিন করা পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘আর অচিরেই আপনার রব আপনাকে এত (নিয়ামত) দান করবেন যে, আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন।’ প্রায় ৮ মাস পর ৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে (এএসপি) সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে সেই পোস্টই আবার আলোচনায় এনেছেন তিনি। তার মেধাক্রম ৭৭।
জানা গেছে, শুভ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। বিসিএস প্রস্তুতির পাশাপাশি তিনি একটি কোচিংয়ে ইংরেজি পড়াতেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাসে শুভ জানান, ৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়াই তার জীবনের প্রথম এবং একমাত্র চাকরি।
তিনি লেখেন, আমার মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হয় ২০২২ সালের ১৮ নভেম্বর। তারপর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সিনসিয়ারলি আমি কেবল দুটো বিসিএস (৪৫তম বিসিএস ভাইভা ও ৪৬তম বিসিএস রিটেন) পরীক্ষা দিয়েছিলাম। কারণ আমার কেবল এবং কেবলমাত্র লক্ষ্য ছিলো বিসিএস। এর বাইরে আমি কেবল পাঁচটি জবে আবেদন করেছিলাম। এগুলো হলো- পেট্রোবাংলা, পিজিসিবি, বাংলাদেশ ব্যাংক; কিন্তু এই তিনটিতেই প্রিলি ফেল। পিডিবিএফ ও বেপজার এডির ভাইভা দিয়েছিলাম; কিন্তু চাকরি পাইনি।
তিনি আরও লেখেন ২০২৫ সালে ৪৫তম বিসিএসের ভাইভা দিয়ে খালি হাতে ফেরার পর ডিপ্রেশন থেকে অন্যান্য চাকরিগুলোতে অ্যাপ্লাই করি। যেগুলোতে আবেদন করেছি এর মধ্যে প্রায় প্রতিটিতেই ভাইভা/রিটেন দিয়েছি কিন্তু চাকরি কোথাও হচ্ছিলো না। যখন হতাশার চরম পর্যায়ে তখন আল্লাহ ৪৭তম বিসিএসের রেজাল্ট দিয়ে আমাকে চূড়ান্ত সন্তুষ্ট করে দিয়েছেন।
শুভ আরও লেখেন, ৪৫তম বিসিএস থেকে যখন খালি হাতে ফিরি। সেদিন আমিই খুবই হতাশ হয়ে পড়ি। তবে আল্লাহর সিদ্ধান্ত মেনে নেই। আমি কোচিংয়ে পড়াই (ইংরেজি)। এ নিয়ে অনেকেই আমাকে কটাক্ষ করতো যে নিজে যেটা (ক্যাডার) না সেটা কেমনে পড়াই। বহু সমালোচনা শুনতাম আর বলতাম, ‘ফা ইন্না মা’আল উসরি ইউসরা, ইন্না মা’আল উসরি ইউসরা’ অর্থাৎ ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে। অবশ্যই কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে।’
পিনড পোস্ট সম্পর্কে লেখেন, সেদিনই একটি পোস্ট লিখে আমার টাইমলাইনে পিনড করে রাখি সূরা দুহার আয়াত- ‘আর অচিরেই আপনার রব আপনাকে এত (নিআমত) দান করবেন যে, আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন।’
তিনি আরও লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ যে ধৈর্যশীল এবং লক্ষ্যে স্থিরদের নিরাশ করেন না তার চূড়ান্ত প্রমাণ পেয়েছি। ধৈর্য, আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা ও নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকা আপনাকে চূড়ান্ত সফলতা এনে দেবেই।