২৯ জুন ২০২৬, ০০:০৮

টিউশনির ফাঁদ ভেঙে বিসিএস ক্যাডার কুবির নিহাল

কাজী নিহাল হাসনাইন  © সংগৃহীত

৪৭তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কাজী নিহাল হাসনাইন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের যাত্রা যখন একটি ছোট কক্ষকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল, তখন থেকেই সেই পথচলার সঙ্গী ছিলেন নিহাল। দীর্ঘ অধ্যবসায় ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিসিএস ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আনন্দিত তিনি।

নিজের সাফল্যের পেছনের গল্প তুলে ধরে নিহাল বলেন, আমি কুমিল্লারই ছেলে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অনেক বেশি টিউশনি করাতাম। ফলে কোনো পরীক্ষার প্রস্তুতিতেই পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারিনি। অতিরিক্ত টিউশনির কারণে একাডেমিক ফলও খুব ভালো হয়নি। এত বেশি টিউশনি করাতাম যে আমার অনেক জুনিয়রই আমাকে চিনত না। একসময় বুঝতে পারলাম, এভাবে চললে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। তখন টিউশনির সঙ্গে পড়াশোনার ভারসাম্য আনার চেষ্টা করি এবং চাকরির প্রস্তুতিতে বেশি গুরুত্ব দিই।

অনুজ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী টিউশনি করা যেতে পারে, কিন্তু অতিরিক্ত টিউশনি কখনোই উচিত নয়। এতে একাডেমিক জীবন ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার - দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পরিমিত টিউশনি চাকরির প্রস্তুতিতে সহায়ক হতে পারে, তবে মাত্রাতিরিক্ত হয়ে গেলে সেটিই বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নিহাল বলেন, আজ সবচেয়ে বেশি আনন্দ হচ্ছে বাবা-মাকে গর্বিত করতে পেরে। তারা আমার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমি তাদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বন্ধুদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আমার বিভাগের শিক্ষকরা সবসময় সহযোগিতা করেছেন। তাদের পাশাপাশি বন্ধুদের প্রতিও আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। বিভাগের প্রথম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থীর বিসিএস ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।