ক্লাস ফাঁকি দিয়ে গিয়েছিলেন ট্যুরে, বন্ধুর কাছে শিখেছিলেন জুয়াখেলাও, সমাবর্তনে যে গল্প বললেন গুগল সিইও
জীবন মানেই সেরা গ্রেড, ইন্টার্নশিপ কিংবা চাকরির প্রচণ্ড চাপ নেওয়া নয়, এমনটা বোঝাতে গিয়ে নিজের জীবনের এক গোপন ‘ক্লাস ফাঁকির গল্প’ ফাঁস করলেন গুগল ও অ্যালফাবেটের সিইও সুন্দর পিচাই। নিজের স্মৃতিবিজড়িত বিদ্যাপীঠ স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ২০২৬ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি শোনান, কীভাবে এক শীতের সকালে প্রথমবার ক্লাস ফাঁকি দিয়ে লাস ভেগাস লং ট্যুরে গিয়েছিলেন এবং বন্ধুর কাছে শিখেছিলেন ব্ল্যাকজ্যাক জুয়াখেলা।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে পিচাই বলেন, ‘আমার বাবা-মাও আজ প্রথমবার এই গল্পটি শুনছেন। স্ট্যানফোর্ডে আমার প্যাট নামে এক বন্ধু ছিল। এক বুধবার সকালে আমরা যখন ক্লাসে যাচ্ছিলাম, প্যাট হঠাৎ বলল— চল, ক্লাসে না গিয়ে লাস ভেগাস ঘুরে আসি? জীবনে কোনোদিন ক্লাস ফাঁকি না দেওয়া আমি সেদিন হঠাৎ রাজী হয়ে গেলাম। ৯ ঘণ্টার সেই যাত্রায় পাহাড়ি রাস্তায় প্রথমবার তুষারপাত দেখার এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমার। ভেগাসে গিয়ে প্যাট আমাকে ৫ ডলার দিয়ে জুয়াখেলা শেখাল এবং আমি ১৫ ডলার জিতে খেলা থামিয়ে দিলাম।’
পরদিন ফিরে এসে পিচাই লক্ষ্য করেন, তাঁদের ক্লাস মিস করার বিষয়টি কেউ খেয়ালই করেনি! জীবনের প্রথমবার তিনি উপলব্ধি করেন, একটু রিল্যাক্স করলেও পৃথিবী টা ধ্বংস হয়ে যায় না। অতি মেধাবী শিক্ষার্থীদের মনের চাপ কমাতে এবং সঠিক পথ চিনতে এই সমাবর্তন মঞ্চ থেকে তিনি নিজের জীবনের ৩টি মূল তত্ত্ব বা ফিল্টার শেয়ার করেন।
১. আশাবাদকে বেছে নেওয়া
বিশ্বের পরিস্থিতি এখন যতই কঠিন মনে হোক না কেন, পিচাইয়ের প্রথম পরামর্শ হলো—সবকিছুর মধ্যে ইতিবাচক দিকটা খুঁজে নেওয়া। তিনি নিজের জীবনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, চেন্নাইয়ে ছোটবেলায় তীব্র খরা আর অভাবের মাঝেও তাঁর বাবা-মা তাঁর স্বপ্নের ডানা ছেঁটে দেননি। ক্যালিফোর্নিয়ায় আসার পর চারপাশের শুষ্ক বাদামী প্রকৃতি দেখে তাঁর হোস্ট বলেছিলেন, ‘আমরা একে সোনালী বলতে পছন্দ করি।’ দৃষ্টিভঙ্গির এই সামান্য পরিবর্তনই পিচাইয়ের জীবন বদলে দিয়েছিল। তাঁর মতে, পরিস্থিতি যেমনই হোক, তাকে ইতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ আমাদের হাতেই থাকে।
২. কঠিন কাজের দিকে ঝুঁকে পড়া
সহজ পথ এড়িয়ে সবসময় চ্যালেঞ্জিং বা কঠিন কাজ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সুন্দর পিচাই। তিনি যখন গুগলে মাত্র ১০ জনের একটি দল নিয়ে নতুন ব্রাউজার (গুগল ক্রোম) তৈরির কাজ শুরু করেন, তখন অনেকেই একে অসম্ভব বলেছিলেন। এমনকি প্রতিদ্বন্দী কোম্পানির সিইও একে ‘নগণ্য ভুল’ বলে ঠাট্টা করেছিলেন। কিন্তু পিচাই দমে যাননি। তিনি বলেন, কঠিন কাজ করলে চারপাশে আরও অনেক প্রতিভাবান ও আশাবাদী মানুষ জড়ো হয়। আর বড় লক্ষ্যটি পুরোপুরি পূরণ না হলেও, দারুণ কিছু একটা অবশ্যই শেখা যায়।
৩. মনের ভেতরের রোমাঞ্চকে অনুসরণ করা
পিচাইয়ের শেষ তত্ত্বটি খুব সরল— জীবন বা ক্যারিয়ারে সেই কাজটিই বেছে নিন, যা আপনাকে ভেতর থেকে রোমাঞ্চিত বা এক্সাইটেড করে। ১৯৯৩ সালে স্ট্যানফোর্ডের ল্যাবে সারিবদ্ধ কম্পিউটার দেখে প্রযুক্তির প্রতি যে রোমাঞ্চ তিনি অনুভব করেছিলেন, তা-ই তাঁকে আজ গুগলের সিইও বানিয়েছে। তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বাবা-মা কী চান বা সমাজ কী ভাবছে— তা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। বরং কোন বিষয়টি নিয়ে আপনি বন্ধুদের সাথে গভীর রাত পর্যন্ত উত্তেজিত হয়ে আড্ডা দিতে পারেন, ঠিক সেই কাজটিই করতে নেমে পড়ুন।’