১৩ জুন ২০২৬, ২২:২৬

বিশ্ব জীববৈচিত্র্য ফোরামে গবেষণা উপস্থাপনে ডাক পেলেন বাংলাদেশি ছাত্র আকিজ

শেখ মো. আকিজ  © সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক গবেষণা ও উদ্ভাবন অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শেখ মো. আকিজ। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠাতব্য ওয়ার্ল্ড বায়োডাইভারসিটি ফোরাম (ডব্লিউবিএফ) ২০২৬-এ গবেষণা উপস্থাপনের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ব জীববৈচিত্র্য ফোরামের প্রতিযোগিতামূলক আর্লি ক্যারিয়ার রিসার্চ গ্রান্ট এবং ইউনিভার্সিটি অব বাল্টিমোরের টার্নার রিসার্চ অ্যাওয়ার্ডও অর্জন করেছেন।

সব মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার মার্কিন ডলারেরও বেশি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার টাকার সমপরিমাণ) গবেষণা ও ভ্রমণ সহায়তা অর্জন করেছেন এই শিক্ষার্থী, যা তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দিয়েছে।

আগামী ১৪ থেকে ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক আয়োজন। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক, বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন।

শেখ মো. আকিজ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব বাল্টিমোরের মেরিক স্কুল অব বিজনেসে মার্কেটিং বিষয়ে এমবিএ অধ্যয়ন করছেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড ইনোভেশনে (সিইআই) গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ফোরামে তিনি ‘প্রাণবৈচিত্র্যের জন্য উদ্যোক্তা উন্নয়ন: সার্কুলার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রকৃতি, মানুষ ও পুঁজির সংযোগ’ শীর্ষক গবেষণা উপস্থাপন করবেন। গবেষণাটিতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করার একটি নতুন কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষণার মূল ধারণা হলো, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ শুধু পরিবেশগত দায়িত্ব নয়; এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নের একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। এতে বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে টেকসই ও বাস্তবভিত্তিক সমাধান তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নিজের প্রতিক্রিয়ায় শেখ মো. আকিজ বলেন, আন্তর্জাতিক এই প্ল্যাটফর্মে গবেষণা উপস্থাপনের সুযোগ পাওয়া তার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। তিনি বিশ্বাস করেন, গবেষণা, উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের সমন্বয়ে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর সমাধান তৈরি করা সম্ভব।

এ বিষয়ে ইউনিভার্সিটি অব বাল্টিমোরের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. টিং ঝ্যাং বলেন, ওয়ার্ল্ড বায়োডাইভারসিটি ফোরাম ২০২৬-এ শেখ মো. আকিজের গবেষণা গৃহীত হওয়া এবং প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুদান অর্জন তাঁর একাডেমিক উৎকর্ষ, সৃজনশীল চিন্তাশক্তি এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে গবেষণার প্রয়োগের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তাঁর গবেষণা দেখায় কীভাবে উদ্যোক্তা চিন্তা ও টেকসই উন্নয়ন একসঙ্গে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে ইউনিভার্সিটি অব বাল্টিমোরের প্রতিনিধিত্ব করতে দেখে আমরা গর্বিত।

অন্যদিকে সেন্টার ফর এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড ইনোভেশনের (সিইআই) পরিচালক হেনরি মর্টিমার বলেন, ওয়ার্ল্ড বায়োডাইভারসিটি ফোরাম ২০২৬-এ শেখ মো. আকিজের গবেষণা গৃহীত হওয়া এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুদান অর্জন তাঁর একাডেমিক উৎকর্ষ, অধ্যবসায় এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির স্বীকৃতি। আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে ইউনিভার্সিটি অব বাল্টিমোরের প্রতিনিধিত্ব করতে দেখে আমরা গর্বিত। এই অর্জন আমাদের শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবনমুখী পরিবেশের প্রতিফলন।

এর আগে শেখ মো. আকিজ যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বৃত্তি ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে— ইউপিএস-স্পন্সরড মু কাপা টাও স্কলারশিপ, সিগমা নু টাও ফাউন্ডার্স স্কলারশিপ, টার্নার রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ইনস্টিটিউটের অ্যালব্রেখ্ট ফেলোশিপ স্কলারশিপ এবং ইউনিভার্সিটি অব বাল্টিমোর গ্লোবাল ফিল্ড স্টাডি স্কলারশিপ।

তিনি একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মানসূচক একাডেমিক ও পেশাগত সংগঠনের আজীবন সদস্য। এর মধ্যে রয়েছে— বেটা গামা সিগমা (আন্তর্জাতিক বিজনেস অনার সোসাইটি), ওমিক্রন ডেল্টা কাপা (জাতীয় নেতৃত্ব অনার সোসাইটি), সিগমা নু টাও (জাতীয় উদ্যোক্তা অনার সোসাইটি), মু কাপা টাও (জাতীয় মার্কেটিং অনার সোসাইটি) এবং সিগমা আয়োটা এপসিলন (জাতীয় সম্মানসূচক ও পেশাগত ম্যানেজমেন্ট সোসাইটি)।

এছাড়া তিনি ইউনিভার্সিটি অব বাল্টিমোরের বেটা গামা সিগমা চ্যাপ্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফাইন্যান্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টারপ্রেনারশিপ ক্লাবের (ই- ক্লাব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন।

শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিক সাফল্যের অংশ হিসেবে তিনি এমবিএ প্রোগ্রামের স্প্রিং ২০২৬ সেমিস্টারে ৪.০০ জিপিএ অর্জন করেছেন। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে সাফল্যের সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।