২৭ মে ২০২৬, ১২:২৭

ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী নুরুন্নাহার যেভাবে এভারেস্ট জয় করলেন

নরুন্নাহার নিম্নি   © সংগৃহীত

তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নুরুন্নাহার নিম্নি। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের অষ্টম এভারেস্টজয়ী হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখালেন। বুধবার (২৭ মে) নেপালের স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২৪ মিনিটে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান তিনি।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি)। এতে বলা হয়, ‘অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানানো যাচ্ছে যে, পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টের চূড়ায় সফলভাবে আরোহণ করেছেন বাংলাদেশের নারী পর্বতারোহী নুরুননাহার নিম্নি। আজ নেপালের স্থানীয় সময় ভোর ৫:২৪ মিনিটে তিনি এভারেস্টের চূড়া স্পর্শ করেন। অভিযান ব্যবস্থাপনা সংস্থা 8K Expedition থেকে অ্যাঙ তেম্বা শেরপা আনুষ্ঠানিকভাবে এই গৌরবময় তথ্য নিশ্চিত করেছেন।’

বিএমটিসি জানায়, চূড়ান্ত আরোহণের জন্য গত ২৫ মে ক্যাম্প-২ থেকে যাত্রা শুরু করেন নিম্নি। সেদিন রাতে তিনি ক্যাম্প-৩-এ অবস্থান করেন। পরদিন ভোরে ক্যাম্প-৩ থেকে রওনা হয়ে দুপুরের দিকে পৌঁছান ক্যাম্প-৪-এ। সেখানে কয়েক ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যায় শুরু করেন চূড়ান্ত অভিযান। সারারাত প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম পথ অতিক্রম করে অবশেষে ভোরে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন দাওয়া নুপু শেরপা ও লাকপা থিনদুক শেরপা।

এর আগে অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষায় কয়েক দিন ক্যাম্প-২-এ অবস্থান করতে হয়েছিল তাঁকে। প্রথম দফায় শিখরে ওঠার চেষ্টা করেও আবহাওয়ার কারণে ফিরে আসতে হয়। পরে আবহাওয়া অনুকূলে এলে আবারও অভিযান শুরু করেন তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘সারারাত দুর্গম ও প্রতিকূল পথ পেরিয়ে আজ ভোরে তিনি এভারেস্টের শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছান এবং পরম গৌরবে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা তুলে ধরেন।’

নুরুন্নাহার নিম্নি গত ১১ এপ্রিল এভারেস্ট অভিযানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন। অভিযানটি পরিকল্পনা করে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব এবং স্পনসর করে পূবালী ব্যাংক পিএলসি।

রংপুরে বেড়ে ওঠা নিম্নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। বর্তমানে তিনি পূবালী ব্যাংক পিএলসির জেনারেল ব্যাংকিং বিভাগে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

নিম্নির পাহাড়জয়ের স্বপ্নের শুরু ২০০৬ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে ফিল্ডওয়ার্কে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে গিয়ে পাহাড়ের প্রতি গভীর আকর্ষণ তৈরি হয় তাঁর। পরে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের বড় একটি সময় কাটে বান্দরবানের পাহাড়ে ঘুরে। চাকরিজীবনে প্রবেশের পরও পাহাড়ের প্রতি সেই টান কমেনি। ভুটান, ভারতের সিকিম এবং নেপালের বিভিন্ন পাহাড়ে ট্রেকিং করেছেন তিনি।

২০১৯ সালে নেপালের অস্ট্রেলিয়ান ক্যাম্পে গিয়ে আরও উঁচু শৃঙ্গ জয়ের স্বপ্ন দেখেন নিম্নি। এরপর ২০২০ সালে এভারেস্ট বেজক্যাম্প ট্রেক সম্পন্ন করেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে পেশাদার পর্বতারোহণে অনুপ্রাণিত করে। ২০২২ সালে ভারতের দার্জিলিংয়ের হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। একই বছর যোগ দেন বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবে। এই সংগঠনের ব্যানারেই এবারের এভারেস্ট অভিযানে অংশ নেন তিনি।

বাংলাদেশের নারী পর্বতারোহীদের ইতিহাসে নুরুন্নাহার নিম্নির এই অর্জন নতুন মাত্রা যোগ করল। এর আগে ২০১২ সালের ১৯ মে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন নিশাত মজুমদার। একই বছরের ২৬ মে শিখরে ওঠেন ওয়াসফিয়া নাজরীন। এরপর দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবার কোনো বাংলাদেশি নারী এভারেস্ট জয় করলেন।

বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্টজয়ী মুসা ইব্রাহীম ২০১০ সালের ২৩ মে শিখরে ওঠেন। এরপর এম এ মুহিত দুবার এভারেস্ট জয় করেন। ২০১৩ সালে এভারেস্ট জয় করে ফেরার পথে মারা যান সজল খালেদ। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৪ সালে বাবর আলী এবং ২০২৫ সালে ইকরামুল হাসান শাকিল এভারেস্ট জয় করেন। আর ২০২৬ সালে বাংলাদেশের একমাত্র অভিযাত্রী হিসেবে এভারেস্টের চূড়ায় দেশের পতাকা ওড়ালেন নুরুন্নাহার নিম্নি।