বেইলি রোডের প্রেম নাকি টেকে না! নস্টালজিয়ায় নটর ডেম-ভিকারুননিসা
সবাই বলেছিল বেইলি রোডের প্রেম ঠিকে না, অথচ অনায়াসে সেটা গড়াল পরিণয় অব্দি। তাও আবার মানিকজোড় খ্যাত নটরডেম কলেজ আর ভিকারুন্নিসা কলেজের মধ্যে। বয়স আর সম্পর্কের রসায়ন পুরোনো হলেও নিজেদের মধ্যকার সম্পর্কটা যেন চির তরুণ, প্রিয় কলেজ প্রাঙ্গনে ফের কলেজ ব্যাগ কাধেঁ ফেরাটা যেন তারই প্রতিচ্ছবি।
সবকিছুর শুরু হয়েছিল নটরডেম কলেজের প্রাক্তণ ছাত্র রাশেদ রাজনের স্ত্রীর সযত্নে তুলে রাখা কলেজের সেই পুরোনো ইউনিফর্মটি দিয়ে। ট্রায়াল দিতে গিয়ে তার স্ত্রীর চক্ষু ছানাবড়া হয়ে গেল এটা দেখে যে এতোবছর পর একই ইউনিফর্ম তার গায়ে দিব্যি ফিট হচ্ছে।
নিজের ফেসবুকে রাশেদ শেয়ার করলেন সেই মুহুর্তের কথা যখন তার স্ত্রীর কথায় সেই পুরোনো দিনে ফেরত গেলেন। তিনি লিখেন,
পুরনো দিনের স্বাদ: Notre Dame ও VNC স্মৃতিতে
‘স্ত্রী দেবী তার সংরক্ষিত ইউনিফর্ম ট্রায়াল দিতে গিয়েছিল। (আমরা দুজন Notre Dame College, Group W – 2013 HSC এবং VNC-Humanities 2013 HSC ব্যাচের স্টুডেন্ট) ট্রায়াল করতে গিয়ে দেখা গেল, ইউনিফর্ম এখনো পুরোপুরি ফিট হয়! সেই মুহূর্তে হঠাৎ মনে হল -চলো,পুরনো স্মৃতিগুলো আবার রিক্রিয়েট করি।
তাহসান ভাই সবসময় বলতেন, ‘বেইলি রোডের প্রেম টিকেনা।” তবুও আমরা একটু ভয়ে ভয়ে বেইলি রোডের দিকে ঘুরে গেলাম। ভাগ্যিস, আমাদের সময় Notre Dame এর ইউনিফর্ম ছিল না। তাই আমরা সেই বিখ্যাত ট্রান্সপারেন্ট ব্যাগটাই ব্যবহার করলাম,যার জন্য অন্যরা তখন ‘প্লাস্টিক ব্যাগ’ বলেই ক্ষ্যাপাতো।
এই বয়সে আবার কলেজ স্টুডেন্ট সাজ, কলেজ স্টুডেন্টদের মতো চোখের সামনে যা স্ট্রিট ফুড পড়ে, তাই খাওয়া। ছোট্ট সেই ব্যাগ কাঁধে নেয়ার সাথে সাথে যেন কয়েক বছর পেছনে ফিরে যাই। কলেজে ভর্তি হওয়ার সময়ও এই ব্যাগটা নিয়ে কিছুটা বিস্ময়কর অনুভূতি হয়েছিল, কিন্তু আজ ভিকি স্ত্রীকে নিয়ে প্রথম ক্যাম্পাসে ঢুকতে গিয়েই সেই অনুভূতি পুরোটা জাগ্রত হলো।
স্মৃতির এই যাত্রা, ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে আবার নতুনভাবে বাঁচিয়ে দিয়েছে পুরনো দিনগুলোর মজা, বন্ধুত্ব, প্রথম ক্যাম্পাসের উত্তেজনা, আর ছোট্ট ব্যাগের সঙ্গে থাকা সেই অমলিন অনুভূতি।’
নশ্বর পৃথিবীতে সময় সবকিছু কেড়ে নিলেও কিছু অনুভূতিকে মলিন করতে পারে না। জীবনের ব্যস্ত এই বাঁকে এসে চিরযৌবন এই যুগল প্রমাণ করলেন, বয়স শুধু একটি সংখ্যা মাত্র। মনের কোণে যদি প্রেম আর স্মৃতির দোলা থাকে, তবে যেকোনো দিনই ফিরে যাওয়া যায় সেই প্রিয় ক্যাম্পাসের দিনগুলিতে। ছোট ছোট এই মুহূর্তগুলোকে নতুন করে বাঁচিয়ে তোলার মাঝেই লুকিয়ে আছে জীবনের আসল আনন্দ।