জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেন বেরোবির ৪ শিক্ষার্থী
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন বিভাগের চার শিক্ষার্থী ইউরোপের দেশ জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। আজ ৫ এপ্রিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই চার শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীরা হলেন—মার্কেটিং বিভাগের ১০ম ব্যাচের দুই শিক্ষার্থী ফারহানা সেতু ও সবিতা রানী রায়, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একই ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান। এই তিনজন জার্মানির ইঙ্গোলস্টাড শহরের ক্যাথলিশে ইউনিভার্সিটিতে ‘বিজনেস অ্যানালিটিক্স অ্যান্ড অপারেশনাল রিসার্চ (বিএওআর)’ বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার সুযোগ পেয়েছেন।
অপরদিকে, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী দিগন্ত সাহা জার্মানির উফপারটাল শহরের বার্গিশে ইউনিভার্সিটিতে ‘অ্যাপ্লাইড ইকোনমিক্স’ বিষয়ে স্নাতকোত্তর অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন।
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান তার অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আমার জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির এই পথচলা শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ১৫ তারিখে, যখন আমি জার্মান দূতাবাসে ভিসার সময় নিই। পরে জানতে পারি, ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ অপেক্ষার সময় রয়েছে। সেই সময় থেকেই আমি ধাপে ধাপে নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকি—প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে নেওয়া, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ঠিক করা এবং মানসিকভাবে নিজেকে তৈরি করা—সবকিছুর দিকেই মনোযোগ দিই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইইএলটিএসের প্রস্তুতিও শুরু করি। এরপর জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন করা এবং জার্মান ভাষা শেখা শুরু করি। যেহেতু সামার সেমিস্টারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল, তাই আমি যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার সুযোগ ছিল, প্রায় সবগুলোতেই আবেদন করি।’
‘তবে ফলাফল পেতে দেরি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আমার উদ্বেগ বাড়ছিল। আমি আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাই। সর্বশেষ ক্যাথলিশে ইউনিভার্সিটি আইখস্ট্যাট-ইঙ্গোলস্টাড থেকে ‘বিজনেস অ্যানালিটিক্স অ্যান্ড অপারেশনস রিসার্চ (বিএওআর)’ প্রোগ্রামে অফার লেটার পাই। সব দিক বিবেচনা করে আমি সেখানেই পড়ার সিদ্ধান্ত নিই।’
জুনিয়রদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘নিজের লক্ষ্য পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করুন, সে অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করুন, একটি বাস্তবসম্মত ও স্মার্ট পরিকল্পনা তৈরি করুন এবং তা নিয়মিতভাবে বাস্তবায়ন করুন। তাহলে ইনশাআল্লাহ, আপনিও আপনার স্বপ্নের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারবেন।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শওকাত আলী বলেন, ‘নিশ্চয়ই এটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বড় সুসংবাদ। তাদের এই সাফল্য আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। এসব সুযোগের মাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। আমরা শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করতে একটি বরাদ্দ দেওয়া শুরু করেছি। গত বছরও দিয়েছি, এবারও দেব। এ জন্য আমরা তালিকা প্রস্তুত করছি।’