বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ শর্ত কমানোর আহ্বান আবিদের
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ শর্ত (এসএসসি ও এইচএসসি ফলের) কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান। আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এমন আহ্বান জানান।
এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আপনাদের ফল প্রকাশিত হয়েছে। কারও ইতিবাচক ফলের মধ্য দিয়ে মন খারাপ হয়েছে, আবার কারও নেতিবাচক ফলের মধ্য দিয়ে মন খারাপ হয়েছে। দেখুন, নেতিবাচক ফল আপনারা একা করেননি। প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী এ রকম প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, অকৃতকার্য থেকে গেছে। এটি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি প্রকৃত পরিস্থিতি, যা সরকার তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।
ছাত্রদল নেতা বলেন, একই সঙ্গে যারা এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের আগামী এক মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ সরকার করে দিয়েছে। তার মানে, আপনাদের জীবন থেকে এক বছর হারিয়ে যাওয়ার যে নিয়ম ছিল, সেটি কিন্তু এবার হতে যাচ্ছে না। যারা অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ, এখানে এমন অনেক শিক্ষার্থী রয়েছেন, যারা এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। তারা যখন ওই বিষয়গুলোতে কৃতকার্য হবেন, তখন জিপিএ-৫ পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। এ রকম শিক্ষার্থীও এখানে আছেন।সুতরাং এটি একটি প্রতিকূল পরিস্থিতি। প্রত্যেকের জীবনের জন্য এটি একটি শিক্ষা। এই প্রজন্ম এবং পরবর্তী প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি শিক্ষা যে, প্রথমবারেই যেন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া যায়, সে জন্য আগামীবারের শিক্ষার্থীরা আরও বেশি পড়াশোনায় মনোযোগী হবে।
‘এবার আসি যারা পাস করেছেন, কিন্তু নিজেদের প্রত্যাশা অনুযায়ী জিপিএ-৫ পাননি, তাদের বিষয়ে। এ নিয়ে অনেকের মন খারাপ। অনেকে পড়ার টেবিলে বসছেন না। দেখুন, এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর দুই বছর পর্যন্ত আপনাকে কেউ জিজ্ঞেস করার সুযোগ পেয়েছে যে আপনি এসএসসিতে কত পেয়েছেন। কিন্তু আগামী এক মাস পর আপনাকে কেউ জিজ্ঞেস করবে না যে আপনি ইন্টারমিডিয়েটে কী ফল করেছেন। আপনাকে জিজ্ঞেস করবে, আপনি কোথায় ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।’
আবিদুল ইসলাম খান বলেন, সুতরাং যে পরীক্ষার ফলের প্রভাব ভর্তি পরীক্ষায় তেমনভাবে নেই, সেটি নিয়ে মন খারাপ করে বসে থাকলে চলবে না। নিজের যত্ন নিজেকেই নিতে হবে। পড়ার টেবিলে বসুন, পড়াশোনা করুন। ইনশাআল্লাহ, আপনি যা করেছেন, তার চেয়ে ভালো ফলাফল করবেন। কারণ, তুলনামূলক খারাপ ফলাফল করে থাকলেও এটি আপনার জন্য হতাশার কোনো কারণ নয়, বরং এটি আপনার শক্তি। এবার আমি সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও আইএসটি কর্তৃপক্ষের কাছে একটি অনুরোধ জানাতে চাই। শিক্ষার্থীরা এসব পরীক্ষায় অংশ নিতে গেলে এসএসসি ও এইচএসসি ফলের একটি নির্দিষ্ট যোগ্যতা বা শর্ত থাকে। যেহেতু এবার মাত্র অর্ধেকের মতো কিংবা তার কিছু বেশি শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে, তাই সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা নির্ধারণে এসএসসি ও ইন্টারমিডিয়েটের ফলের বাধ্যবাধকতা যতটা সম্ভব শিথিল করা যায় কি না, সে বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
‘কারণ, এই ছেলেমেয়েরাই তো আমাদের আগামী বাংলাদেশ, এরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। এদের জন্যই তো সব নিয়মকানুন ও আইন। যেসব নিয়মকানুনের মাধ্যমে আমরা মেধার মূল্যায়ন করতে যাচ্ছি, সেগুলো এমন হওয়া উচিত যেন শিক্ষার্থীরা সেই মূল্যায়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়। কোনো শিক্ষার্থী আগে খারাপ ফল করলেও এবার ভালোভাবে পড়াশোনা করছে। কিন্তু আগের ফলাফলের কারণে যদি সে ভর্তি পরীক্ষায় বসতে না পারে, সেই পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ না পায়, তাহলে হয়ত সারা জীবন রাষ্ট্র ও ব্যবস্থাকে দোষারোপ করে যাবে। তার মনে এই আফসোস থেকে যাবে যে, আগে খারাপ করলেও এবার ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিল, কিন্তু ফলাফলের কারণে পরীক্ষায় বসতে পারেনি। সুযোগ পেলে তার জীবনটা হয়তো অন্য রকম হতে পারত।’
তিনি আরও বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি যেন কোনো শিক্ষার্থীর এমন আফসোস তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সদয় দৃষ্টি রাখবেন বলে আমি আশা করি।