০৩ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৪২

সংবিধান সংশোধন কমিটির নামের প্রহসন মানি না: ছাত্রশক্তি

জাতীয় ছাত্রশক্তি  © টিডিসি সম্পাদিত

সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। সংগঠনটির দাবি, এই কমিটি গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা। এর গঠন, কার্যক্রম কিংবা সুপারিশ কোনোটিই তারা স্বীকার করে না। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ছাত্রশক্তির সভাপতি আবু বাকের মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী এক যৌথ বিবৃতিতে এ অবস্থান জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের মানুষ স্পষ্ট রায় দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী ৪ কোটি ৭২ লাখেরও বেশি মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। তারা সম্মতি দিয়েছেন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর পক্ষে। সেই আদেশ অনুযায়ী সংবিধান বদলানোর পথ একটাই, সংবিধান সংস্কার পরিষদ। কোন পথে সংবিধান বদলাবে, সেটা জনগণ ভোট দিয়েই ঠিক করে দিয়েছে। এ নিয়ে নতুন করে দর-কষাকষির কোনো সুযোগ নেই।

অথচ ক্ষমতাসীন দল সেই রায়কে পাশ কাটিয়ে সংসদে একটি ‘সংশোধন কমিটি’ বানিয়েছে। নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন রাখেন, জনগণ ভোট দিয়েছে সংস্কারের জন্য, তাহলে সংশোধনের কমিটি কোথা থেকে এলো? গণরায়ের জায়গায় দলীয় সুবিধামতো কাটছাঁট চাপিয়ে দেওয়ার এই চেষ্টা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার সাথে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা।

তারা বলেন, এই কমিটিতে কারা আছেন, কয়টা বৈঠক হলো, কী প্রস্তাব এলো, এসব আমাদের কাছে কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। যে কাঠামোর ভিত্তিটাই গণরায়বিরোধী, তার ভেতরের আলাপ সংস্কার হতে পারে না। ভুল ঘরে বসে সঠিক সংবিধান বানানো যায় না।

জাতীয় ছাত্রশক্তির দাবি- তথাকথিত সংবিধান সংশোধন কমিটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এর কোনো সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধনী বিল আনা যাবে না; গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করতে হবে এবং সংস্কার পরিষদের মাধ্যমেই জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ স্পষ্টভাবে আরও বলেছেন, জাতীয় ছাত্রশক্তি এই কমিটির কোনো মতবিনিময়, শুনানি বা পরামর্শে অংশ নেবে না।