০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০০:৪২

ফের গ্যাসের দাম বৃদ্ধি জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত দাবি করে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি ছাত্রশিবিরের

শিবিরের লোগো  © সংগৃহীত

ভোক্তাপর্যায়ে আবারও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে জনস্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২ নভেম্বর) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, দেশের সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষ যখন চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা, তখন রান্নার অপরিহার্য উপাদান এলপিজির দাম আবারও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কোনো জনবান্ধব সরকারের কাজ হতে পারে না। বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত আট মাসে পাঁচ দফায় এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছে। গত এপ্রিলে দুই দফায় যথাক্রমে ৩৮৭ ও ২১২ টাকা, আগস্টে ৭০ টাকা, অক্টোবরে ২৫২ টাকা এবং সর্বশেষ ২২৩ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে। এভাবে বারবার জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সরকার সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। রান্নার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম এভাবে বাড়ানো জনস্বার্থের পরিপন্থী।

নেতৃদ্বয় আরও বলেন, মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতার বাস্তবতা বিবেচনা না করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার ব্যয় বাড়িয়ে জনগণের ওপর একের পর এক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মানুষের আয় না বাড়লেও সংসার পরিচালনার ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার, শিক্ষার্থী, ভাড়াটিয়া এবং সীমিত আয়ের মানুষ এ মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি শিকার হচ্ছেন।

তারা বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে খুচরা বাজারে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে। ফলে ভোক্তাদের নির্ধারিত মূল্যের বাইরেও বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। এ ছাড়া হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয়ও বাড়বে, যার প্রভাব সামগ্রিক বাজারব্যবস্থায় পড়বে। সরকারের দায়িত্ব জনগণের ওপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপানো নয়; বরং মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা।

বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, পাইপলাইনের গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে দেশের কোটি কোটি পরিবার রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতাকে পুঁজি করে আন্তর্জাতিক বাজারের অজুহাতে বারবার দাম বাড়ানো হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, এলপিজি আমদানি ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িত অসাধু আমদানিকারক ও মধ্যস্বত্বভোগীদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনও (বিইআরসি) কার্যত জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করছে। মূল্য নির্ধারণের নামে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে বাড়তি অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার এ প্রবণতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় অবিলম্বে এলপিজির বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ এবং মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি বাজারে কৃত্রিম সংকট, মজুতদারি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। জনগণের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ছাত্রশিবিরের নেতারা।