ছেলের এইচএসসি পাসের খবর জানিয়ে বিলুপ্ত কমিটি, আবেগি ছাত্রদল সভাপতির দীর্ঘ স্ট্যাটাস
ছেলে এইচএসসি পাস করেছেন’—এমন একটি সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (১ নভেম্বর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা জেলা ও মেহেরপুর জেলা শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। শিগগিরই এসব ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে কমিটি বাতিলের পর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে স্ট্যাটাস দিয়েছেন সেই জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহজাহান খান। লেখেন, ‘দীর্ঘ ১৯৯৮ সাল থেকে আমার ছাত্ররাজনীতির পথচলা শুরু। ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার শুরু থেকেই যৌবনের প্রথম প্রেম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সঙ্গে। ছাত্রদলের প্রতি ভালো লাগার অন্যতম কারণ ছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি বীর উত্তম জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশনেত্রী মমতাময়ী মা বেগম খালেদা জিয়ার দেশের জনগণের প্রতি ভালোবাসা ও দেশপ্রেম এবং দেশনায়ক, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের দেশের ও দেশের মানুষের প্রতি মায়া-মমতা এবং দায়িত্ববোধ।’
তিনি বলেন, ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। পরবর্তী সময়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মরহুম মির্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলু ভাই ও শরিফুজ্জামান সিজার পরিষদ আমাকে চুয়াডাঙ্গা পৌর ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করেন। আমি নিষ্ঠার সঙ্গে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছি। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী (এমপি) জনাব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জনাব আমিরুল ইসলাম খান আলীম পরিষদ আমাকে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করেন। এ দায়িত্বে থেকে প্রায় ৭-৮ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছি।
এরপর ২০১৮ সালের ৬ জুন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ পুনরায় আমাকে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও দেশনায়ক জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী, ছাত্রদলের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী (এমপি) জনাব রাজিব আহসান এবং তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য জনাব আকরামুল হাসান মিন্টু ভাইয়ের নেতৃত্বাধীন পরিষদ আমাকে এ দায়িত্ব প্রদান করে। আমিও ন্যায়নিষ্ঠা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, দীর্ঘ আট বছর।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সঙ্গে থেকে ন্যায়নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছি। এ দীর্ঘ পথচলায় অনেক স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও ভালোবাসা অর্জন করেছি। আমার রাজনৈতিক পথচলায় দায়িত্ব ও আস্থা রাখার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক জনাব তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং যত দিন বেঁচে থাকব, ইনশাআল্লাহ থাকব। আগামী দিনে যারা ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হতে আগ্রহী, তাদের সবার প্রতি রইল অনেক অনেক দোয়া, ভালোবাসা ও শুভকামনা।
মানুষ কি বিয়ে করবে না, বাচ্চা-কাচ্চা হবে না?
এর আগে শাহজাহান খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘মানুষ কি বিয়ে-শাদি করবে না, বাচ্চাকাচ্চা হবে না? ‘আমার দল ১৭ বছর ক্ষমতায় ছিল না। ওই সময় সংগঠনে ছাত্রদল করার মতো কোনো মানুষ ছিল না? সে ক্ষেত্রে দল বিবেচনা করে আমাকে কমিটিতে জায়গা দিয়েছিল ১৮ সালে। কমিটি ভাঙা-গড়া দলের সিদ্ধান্ত। এটা কি আমার সিদ্ধান্ত?’
বিয়ে ও সন্তান প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘দল যখন মনে করবে, তখন কমিটি দেবে; দল যখন মনে করবে, তখন কমিটি ভেঙে দেবে। এটা দলের ইচ্ছা, তাই না? এখন এর মধ্যে বিয়ে-শাদি মানুষ করবে না? বাচ্চাকাচ্চা হবে না? একটা বাচ্চা যদি আমার ভালো কিছু করে, তার জন্য কি আমি মনের আকুতিটা জানাতে পারব না? এটা আসলে ত্রুটি না।’
শাহজাহান খান বলেন, ‘আমার বাচ্চা থাকতে পারে, আমি কি সেটা অস্বীকার করব? এখনো পর্যন্ত দল আমাকে ছাত্রদলে রেখেছে। দল আমাকে যোগ্য মনে করেছে বলেই রেখেছে। দল কি এসব জানে না? তারেক রহমানের কাছে, আমাদের চেয়ারম্যানের কাছে কি এসব প্রতিবেদন নেই?’ ‘আমাদের কমিটি যখন হয়েছে, তখন সবকিছু জেনেই কমিটি দেওয়া হয়েছে। সে সময় তো আমাদের বিবাহিত-অবিবাহিত হওয়াটা বিবেচ্য ছিল না, তাই না? কমিটি দলের সিদ্ধান্ত। দল যখন মনে করবে, তখন আমাকে দায়িত্ব দেবে; আবার যখন মনে করবে, অন্য কাউকে দায়িত্ব দেবে। এটা নিয়ে এত কিছু করা ঠিক না।’
শাহজাহান বলেন, ‘আমি ছাত্রদল করেছি, যুবদল করব স্বাভাবিক। যুবদল করার এখন আমার মোক্ষম বয়স। জেলা যুবদল করারও এটাই উপযুক্ত সময়। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে তো যেতে পারি না। আমি চাইলেই নিজের ইচ্ছামতো চলতে পারব না।’