২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:২৯

জীবন নিয়ে সংশয়, এমপির ছেলেকে ইঙ্গিত করে ফেসবুকে কী লিখেছিলেন হত্যার শিকার ছাত্রদল নেতা?

নাটোর-৪ আসনের বিএনপির এমপি আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টু এবং হত্যার শিকার ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম  © টিডিসি সম্পাদিত

হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার আগেই নিজের জীবন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম। তিনি নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছিলেন। পরে এতে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে ‘বড় ভাই’ উল্লেখ করে এমপির ছেলেকে ইঙ্গিত করে পোস্ট করেছিলেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টের প্রায় সাত মাস পর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ছাত্রদল নেতা শাকিল। এরপর তার সেই পোস্ট নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। তাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান মিন্টুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

তিনি নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে। ঘটনার পর থেকে বিএনপির এই এমপিরও পদত্যাগের দাবি উঠেছে।

গত ২০ এপ্রিল ফেসবুক পোস্টে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম লেখেন, ‘আমি আমার জীবন নিয়ে সংশয় আছি খুবই। আমাকে মারার জন্য এক বড় ভাই বিভিন্ন চক্র ও গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করতেছে, যারা আমাকে মারতে পারবে তাদেরকে নাকি অনেকগুলো টাকা দেওয়া হবে।’

তিনি বলেছিলেন, ‘এই বিষয়ে আমি ওসির সঙ্গে কথা বলে থানায় একটা ডায়েরি করেছি এবং তাদের নাম উল্লেখ করা আছে। আমার যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে ওই ডায়েরি অনুযায়ী মামলা করে দিবেন। আর আমাকে হামলা করার পরে যদি আমি বেঁচে যাই। তাহলে তো ভাই বুঝতেই পারতিছেন, কি হবে এই শহরে। আমি কামলা দিয়ে কাজ করাই না, সাবধান ভাই।’

আরও খবর: নাটোরের এমপিকে যদি পদত্যাগ করাতে পারেন, তবেই ছাত্রদল স্বরুপে ফিরবে

ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌর সদরের কাছারিপাড়া এলাকার রবিউল করিম মিস্ত্রির ছেলে। গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় এমপির ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।