২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৬

শিগগিরই আসছে মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় যারা

আলোচনায় থাকা সাবেক কমিটির কয়েকজন নেতা  © টিডিসি সম্পাদিত

ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কারা আসছেন, তা নিয়ে চলছে হিসাব-নিকাশ। বিলুপ্ত কমিটির নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হবে, নাকি অপেক্ষাকৃত নতুন মুখকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, এ নিয়ে সংগঠনের ভেতরে-বাইরে রয়েছে নানা আলোচনা।

বিএনপির হাইকমান্ড ও পদপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাখা ছাত্রদলের শীর্ষ পদ পেতে পদপ্রত্যাশীরা তৎপরতা চালাচ্ছেন। তাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক কমিটির কয়েকজন নেতা ও বিভিন্ন কলেজের ছাত্রদল নেতারা।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নতুন কমিটির সঙ্গে মহানগর শাখাগুলোর কমিটিও ঘোষণা করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, হামলা-মামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। একই সঙ্গে শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণার কথাও বলা হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের নয় সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে মো. রবিন খানকে সভাপতি এবং আকরাম আহমেদকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে চলতি বছরের ৪ এপ্রিল পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার কয়েক মাসের মধ্যেই সেটি বিলুপ্ত হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

সভাপতি-সম্পাদক পদে আলোচনায় একাধিক নেতা
নতুন কমিটির সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদ, সাবেক সহসভাপতি মোতহার হোসেন নিলয়, গোলাম মাওলা গোলাপ, কাউসার খান ও কাজী শাওন আলম।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন বিলুপ্ত কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া খান সিজার, মিরপুর কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব শরীফুল ইসলাম সুমন, সাবেক দপ্তর সম্পাদক শহীদুল আলম এবং সাবেক প্রচার সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সজীব।

পদপ্রত্যাশী নেতারা বলছেন, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সংগঠনের পাশে থাকা নেতাদের মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তাদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক ত্যাগের পাশাপাশি সাংগঠনিক দক্ষতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতাও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

দায়িত্ব পেলে সংগঠনকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে আলোচনায় আকরাম আহমেদ। তিনি বলেছেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় এবং মেধাভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে সংগঠনকে আধুনিক ও গতিশীল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করতে চান।

সভাপতি পদপ্রত্যাশী মোতহার হোসেন নিলয়ও তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কারাবরণের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্য, ২০১৪ সালে আন্দোলন ও হরতালে পিকেটিং করার সময় পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে নির্যাতনের শিকার হন তিনি। ওই নির্যাতনে তার ডান হাতের পাঁচটি ও ডান পায়ের পাঁচটি নখ উপড়ে ফেলা হয়েছিল।

সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী জাকারিয়া খান সিজার সংগঠনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্ব পেলে ঢাকা মহানগর পশ্চিমের প্রতিটি কলেজে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ জানানোর জন্য বক্স স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

সিজার জানান, এসব বক্সে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজন ও অভিযোগ লিখে জানাতে পারবেন। সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে কাজ করবে মহানগর পশ্চিম ছাত্রদল।

আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় গুরুত্ব
নেতৃত্ব পেতে তৎপর কয়েকজন পদপ্রত্যাশী জাতীয় পর্যায়ের বিএনপি নেতা ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। তারা নিজেদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অতীত ভূমিকা শীর্ষ পর্যায়ে তুলে ধরছেন।

তবে নতুন কমিটিতে শেষ পর্যন্ত কারা স্থান পাবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, পদপ্রত্যাশীদের কর্মকাণ্ড যাচাই-বাছাই করে নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হবে।