১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:২৮

শেরপুরে আন্দোলনের মুখে বদলি মাকসুদা ইয়াসমিনকে নিতে নারাজ জামালপুর নার্সিংয়ের শিক্ষার্থীরাও

ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিনকে গ্রহণ না করার দাবিতে আন্দোলন  © সংগৃহীত

শেরপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিনকে বদলির পর এবার তাঁকে গ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েছেন জামালপুরের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। বদলির প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে ইতিমধ্যে কলেজটির শিক্ষার্থীরা ঢাকায় নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, ময়মনসিংহ নার্সিং কলেজের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর মো. জয়নাল আবেদীনের বদলি বাতিলেও ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে সেখানকার শিক্ষার্থীদের সংগঠন।

গতকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের পরিচালক (শিক্ষা) নাহিদ-উল-মোস্তাক (উপসচিব) স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে প্রশাসনিক কারণে চার কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়। আদেশ অনুযায়ী, শেরপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিনকে জামালপুরের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের ইনচার্জ এবং জামালপুরের ইনচার্জ শাহজাদী মাহমুদাকে শেরপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া শেরপুরের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর গোলশান আরাকে ময়মনসিংহ নার্সিং কলেজে এবং ময়মনসিংহ নার্সিং কলেজের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর মো. জয়নাল আবেদীনকে শেরপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটে বদলি করা হয়েছে।

শেরপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটে মাকসুদা ইয়াসমিনের দায়িত্ব পালন নিয়ে শিক্ষার্থীদের টানা এক মাস আন্দোলনের মধ্যে তাঁর বদলির আদেশ আসে। তবে জামালপুরে তাঁর নতুন কর্মস্থলে যোগদান নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন সেখানকার শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, এ বদলির প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

জামালপুরের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, ‘আর কোনো কলেজ তাঁকে নিলেও আমরা কখনো নেব না। ইতিমধ্যে আমাদের কলেজের সব শিক্ষার্থী সরাসরি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, ঢাকায় অবস্থান করছেন। ইনশাআল্লাহ, ভালো কিছু নিয়ে ফিরবেন। আমাদের ইনচার্জ ম্যামকে আমরা কখনো যেতে দেব না।’

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টেও বদলির প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়, অন্যায়ের কাছে মাথা নত নয়, ন্যায্য অধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস নয়। নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কলেজ, জামালপুর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়ে বলা হয়, অধিকার আদায়ে তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে এক কণ্ঠে ও দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যাবেন।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, শুধু বদলি কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাঁদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আন্দোলনের মুখে কাউকে সরিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে পদায়ন করলে সেখানেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে মাকসুদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, ময়মনসিংহ নার্সিং কলেজের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর মো. জয়নাল আবেদীনের বদলির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে কলেজটির স্টুডেন্টস’ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে তাঁকে ভালো, শিক্ষার্থীবান্ধব ও কর্তব্যপরায়ণ শিক্ষক উল্লেখ করে বদলির আদেশকে ‘প্রহসনমূলক’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদেশ বাতিল না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

অধিদপ্তরের অফিস আদেশে বদলি ও পদায়ন করা কর্মকর্তাদের আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ওই দিন অপরাহ্ণে তাঁদের তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য করার কথা আদেশে উল্লেখ রয়েছে।