০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৩৮

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

বামে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা, ডানে ভুক্তভোগী ছাত্র অধিকার নেতা  © টিডিসি সম্পাদিত

গত ৭ অক্টোবর ‘কক্সবাজারে ট্যুরে নিয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্র অধিকার নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে’ শিরোনামে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিযুক্ত ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন জেমিন। এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি দাবি করেছেন, ট্যুরে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা নাইমুল হাসান জুবায়েরকে নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং সেখানে সবাই বেশ সখ্যতাপূর্ণ পরিবেশে ছিলেন। এ ছাড়া যে সময়ে নির্যাতন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, সে সময়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল এবং ভুক্তভোগী নাইমুল হাসান জুবায়ের সেখানে উপস্থিত থেকে দীর্ঘ বক্তব্যে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন বলেও দাবি করেছেন জেমিন।

এর আগে গত ৬ অক্টোবর অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে নিউমার্কেট থানায় নির্যাতন ও অপহরণচেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন নাইমুল হাসান জুবায়ের। তিনি কলেজ ছাত্র অধিকার পরিষদের ১ নং কার্যকরী সদস্য। তিনি কলেজের দর্শন বিভাগের ২০২৬-১৮৭ সেশনের শিক্ষার্থী। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে তিনি ছাত্রলীগে সক্রিয় ছিলেন এবং নিজেকে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন।

এদিকে প্রতিবাদলিপিতে সাজ্জাদ হোসেন জেমিন বলেন, ‘কক্সবাজারে ট্যুরে নিয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্র অধিকার নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে যে অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, তা অসত্য, বিভ্রান্তিকর। প্রকৃতপক্ষে, প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে আমাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সঠিক নয়।

এতে বলা হয়, কাউকে ট্যুরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করার মতো কোনো ঘটনা আমাদের দ্বারা সংঘটিত হয়নি। নিউজে ৩ অক্টোবর ভোর ৪টার দিকে তাকে ঘুম থেকে তুলে নেয়ার যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ, যেদিন ঘটনা সেদিন চারটা পর্যন্ত আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে সেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাইমুল হাসান জুবায়ের বক্তব্য দিয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সাজ্জাদ হোসেন জমিনের আইডিতে লাইভটি সরাসরি সম্প্রসার করা হয়েছে। এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরে আমাদের ভুরিভোজ অনুষ্ঠান হয় ও পুরস্কার বিতরণী করা হয়। পরে অনুষ্ঠান শেষ করে খাওয়া-দাওয়া শেষ করতে করতে রাত ৫ টার বেশি বেজে যায়।

এছাড়াও নাইমুল হাসান জুবায়েরকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এসব করানো হচ্ছে বলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি পোস্ট করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবাদলিপিতে। এতে নাইমুল হাসান জুবায়েরের একটি পোস্টের বিবরণ তুলে ধরা হয়। পোস্টটিতে বলা হয়েছে, ‘জেমিন ভাইয়ের সঙ্গে আমার কোনো ধরনের বিরোধ বা ঝামেলা হয়নি। আমাকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এসব করানো হচ্ছে। কক্সবাজার থেকে ফেরার আগের দিন রাতে আমি জেমিন ভাইকে নিয়ে একটি বক্তব্য দিই। সেখানে আমি তার রাজনৈতিক সততার প্রশংসা করি। বক্তব্যটি তার আইডি থেকে লাইভ হওয়ার পর মিল্টন ও আরিফ (ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নেতা) আমাকে ফোন করে চাপ দিতে থাকে। মিল্টন সকাল ৮টার দিকে আমাকে দুইবার ফোন করে কথা বলে। কয়েক মাস ধরে মিল্টন ও জেমিন ভাইয়ের মধ্যে যে বিরোধ চলে আসছে, সেটি এখন আমার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে আমি মনে করছি। তাদের দাবি ছিল, আমি যদি জেমিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে কথা না বলি, তাহলে আমাকে পূর্বের ছাত্রলীগের ট্যাগ দিয়ে পুলিশের কাছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ধানমন্ডি লেকে বিবিএস ক্যাবলের মালিক আবু নোমান ইঞ্জিনের ভাগিনা মামুনের কাছ থেকে তারা এক লাখ টাকা চাঁদাবাজি এবং মোবাইল নিয়ে যাওয়ার একটি ঘটনা আমার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়। ভয়ে ও চাপে পড়ে আমি বিভিন্ন মানুষের কাছে জেমিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কথা বলেছি। এর পেছনে আমার নিজের কোনো স্বার্থ ছিল না।

‘আমি এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণ ও চাপের মধ্যে থাকায় স্বাধীনভাবে মুখ খুলতে পারছি না’ উল্লেখ করে পোস্টে বলা হয়, ‘ভোলার বড় ভাইদের এবং ঢাকা কলেজস্থ ভোলা জেলা ছাত্রকল্যাণের ভাইদের কাছে আমার আকুল অনুরোধ, আমাকে এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে সাহায্য করুন। আমি মানসিকভাবে খুবই কষ্টে আছি। আমি শুধু নিরাপদে নিজের রুমে ফিরে যেতে চাই। মিল্টন ও আরিফ আমার চেয়ে অনেক জুনিয়র। তাদের কাছে বিচার দেওয়ার পরিস্থিতিতে পড়াটাও আমার জন্য অত্যন্ত লজ্জা ও কষ্টের। আমার একটাই অনুরোধ, আমাকে নিরাপদে আমার রুমে ফিরতে দিন। জেমিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ থাকলে আমি তার সামনাসামনি নিজেই বলব। কারও চাপ, ভয় বা হুমকির কারণে আমাকে দিয়ে কোনো কথা বলানো হোক, এটা আমি আর চাই না। আমি যতক্ষণ পর্যন্ত আমার মিরপুরের রুমে নিরাপদে ফিরে গিয়ে নিজে থেকে কথা বলতে না পারছি, অথবা ভোলার বড় ভাইদের সামনে স্বাধীনভাবে কথা বলতে না পারছি, ততক্ষণ আমার বক্তব্যকে স্বাধীন বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করবেন না। ধরে নেবেন, পেছন থেকে কেউ আমাকে চাপের মধ্যে রেখেছে। ভোলার বড় ভাইদের কাছে আমার আকুল অনুরোধ, আমাকে এই পরিস্থিতি থেকে নিরাপদে বের হতে সাহায্য করুন।’

প্রতিবাদলিপিতে সাজ্জাদ হাসান জেমিন আরও বলেছেন, এ ধরনের সংবাদ আমাদের সামাজিক ও সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। তাই প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রকাশ করার অনুরোধ করছি।

প্রতিবেদকের বক্তব্য
৭ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণই নিউ মার্কেট থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। শিরোনামসহ পুরো সংবাদেই বিষয়টিকে ‘অভিযোগ’ আকারেই তুলে ধরা হয়েছে এবং এতে প্রতিবেদকের নিজস্ব কোনো বক্তব্য নেই। একই সাথে অভিযোগ দায়েরকারী নাইমুল হাসান জুবায়েরের পাশাপাশি অভিযুক্ত সাজ্জাদ হোসেন জেমিন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মিল্লাদ হোসেনের বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে।