বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সভ্যতা ও মতাদর্শের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে মুসলিম জাতীয়তাবাদ আগামী দিনের প্রধান রাজনৈতিক ধারা হবে বলে দাবি করেছে মুসলিম জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠন বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় বক্তারা এ দাবি করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ, পাসপোর্টে ‘ইসরাইল ব্যতীত’ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত-ইসরাইলের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দেয়। তাদের দাবি, এসব দাবির পক্ষে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় দেশে মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ক্রমেই প্রভাবশালী হয়ে উঠছে।
দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহেদ। বক্তব্যে তিনি সংগঠনটির দুই বছরের পথচলা তুলে ধরে বলেন, ছাত্রসমাজকে মুসলিম আত্মপরিচয়ের রাজনীতির আদর্শ ও নৈতিকতার ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই তাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের মুক্তি সংগ্রামকে একইসঙ্গে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে রাষ্ট্র ও জনগণের মূলভিত্তির প্রধান কাঠামো হিসেবে তারা বাংলাদেশি মুসলিম আত্মপরিচয়কে বিবেচনা করেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান সভ্যতার দ্বন্দ্বের সময়ে বাংলাদেশের জনগণের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের ভিত্তিতে রাজনীতি গড়ে ওঠা জরুরি। তার মতে, আন্তর্জাতিক বাস্তবতার চাপ মোকাবিলায় দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে ধারণ করেই জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
দোয়া মাহফিলে দোয়া পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের সিনিয়র খতিব হাফেজ মাওলানা নাজিব মাহমুদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমদ, সহকারী সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমির শাহ নাজমুল হাসান ফেরদৌস, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব মুহিব খান, কেন্দ্রীয় সহকারী সদস্য সচিব জিহাদী ইহসান, মো. আরিফুল ইসলাম ও মো. শফিকুর রহমানসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।