ডেঙ্গু প্রতিরোধে ফগার মেশিন দিয়ে রাবি ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় দিনের মতো ফগার মেশিন দিয়ে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদল। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন তারা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখদুম হল প্রাঙ্গণ থেকে এ অভিযান শুরু হয়। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ফগার মেশিন দিয়ে হলের বিভিন্ন স্থানে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পাশাপাশি হলের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, ব্লিচিং পাউডার ছেটানো এবং সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেগুলো পরিষ্কার করতে দেখা যায়।
এ সময় ছাত্রদল নেতারা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, অ্যাকাডেমিক ভবন ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
অভিযানে অংশ নিয়ে ছাত্রদল কর্মী মো. রাফিউ হোসেন সিয়াম বলেন, ‘প্রতিবছর এই সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক বেড়ে যায়। ডেঙ্গুর কারণে শিশু, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং অনেকেই মৃত্যুবরণ করছেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ডেঙ্গুর প্রজননস্থল কমিয়ে আনা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রম পরিচালনা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করলেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। এ জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি করতে হবে। আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করছি এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’
রাবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ তাহের রহমান বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা সচেতনতামূলক কর্মসূচি হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছি এবং তাদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করছি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং সবাইকে সচেতন করা জরুরি। আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে যা যা করণীয়, সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’