১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:০০

প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে রাবি ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন অডিটোরিয়ামে ছাত্রশিবিরের রাবি শাখার আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠান  © টিডিসি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রায় চার হাজার নবীন শিক্ষার্থীকে বরণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাবি শাখা। ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ফুল, কলমদানি, কুরআন, অনুপ্রেরণামূলক বইসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয় এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়।

এ সময় আমন্ত্রিত অতিথিদের মাধ্যমে সকল নবীন শিক্ষার্থীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। নবীন শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা পূর্বনির্ধারিত গুগল ফর্মের মাধ্যমে নিবন্ধন করে অংশগ্রহণ করেন এবং নিবন্ধন কোড সংগ্রহ করে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (রুয়া) সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

এ সময় রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ নবীনদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা বড় বড় মনীষীদের কথাগুলো পড়ি, তাদের অনুসরণ করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু অনেক সময় তাঁদের কথার সঙ্গে তাদের বাস্তব জীবনের কর্মকাণ্ডের মিল খুঁজে পাই না। ফলে আমরা বিভ্রান্ত হয়ে যাই। আমাদের বুঝতে হবে, শুধু শারীরিকভাবে বড় হওয়া নয়, গুণ ও নৈতিকতার দিক থেকে বড় হওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি মানুষকে যে আদর্শ বা সফলতার পথ দেখাচ্ছেন, তিনি নিজে সেই আদর্শ কতটা অনুসরণ করছেন—সেটিও আমাদের বিবেচনা করা উচিত।’

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের উচিত এখন থেকেই নিজেকে গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চায়, তার লক্ষ্য ঠিক করা। নিজের অধ্যয়নরত বিষয়ে গভীর ধারণা রাখো। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন স্বপ্নগুলো যেন বিনষ্ট না হয়। আমরা একটি নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে চাই। যে প্রজন্ম ভবিষ্যতে এই দেশের সেবায় নিজেকে সর্বোচ্চ নিয়োজিত রাখবে। মেধাস্বত্বের ভিত্তিতে একটি দেশ গড়ে উঠবে।’

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পৃথিবীর অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে। এই দেশে শিক্ষিত যুবকদের সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয় না। যার ফলে তারা নিজ দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে কর্মস্থান হিসেবে বিদেশকে বেছে নেয়। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অবশ্যই দলীয়করণ থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (রুয়া) সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা, যেখানে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা দেয়, কিন্তু অল্প কিছু সংখ্যক পড়ার সুযোগ পায়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই সবাইকে নিজেকে পড়াশোনায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে দেখতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার জন্য অনেক পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই দেশের ছাত্রছাত্রীদের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির হলো সবচেয়ে নিরাপদ ঠিকানা। আমরা আশাবাদী, শিবির আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল। সমাপনী বক্তব্যে তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা একটা কঠিন ভর্তি যুদ্ধের মাধ্যমে এখানে এসেছ। এখানে ভালো পথ যেমন আছে, তেমনই খারাপ পথও আছে। আশা করছি, তোমরা সঠিক পথে চলবে এবং তোমাদের সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত রাখবে।

মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘সব অধিকার আদায়ে ইসলামী ছাত্রশিবির সবসময় তোমাদের সঙ্গে থাকবে। দুই হাজার শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে কোটা প্রথার কবর দেওয়া হয়েছে, তা আর কখনো ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী মহানগরের সভাপতি ইমরান নাজীর, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান সম্পাদক মু. মাহমুদুল হাসান, আমন্ত্রিত সকল অতিথি এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।