‘মেধাবীদের মূল্যায়ন করুন, দলীয় লোকদের পড়ার টেবিলে বসান’
সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মেধাবীদের মূল্যায়ন করতে হবে এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সুযোগ না দিয়ে দলীয় লোকদের পড়ার টেবিলে বসাতে হবে।’
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘২০২৪ সালের আন্দোলনে আমাদের ১৪০০ ভাই শহীদ হয়েছেন। বৈষম্যের বিরুদ্ধে সেই আন্দোলনে প্রায় ২০ হাজার মানুষ এখনো পঙ্গুত্ব বরণ করে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের শরীর সুস্থ হওয়ার আগেই সরকার তাদের রক্তের ওপর পা দিয়ে ক্ষমতায় এসে আবারও বৈষম্যের পথ বেছে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, সরকার যে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেখান থেকে যদি ফিরে না আসে, তাহলে এই আন্দোলন দাবানলের মতো সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। আর আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে সরকারের পিছনে ফেরার রাস্তাও বন্ধ হয়ে যাবে।
সরকারের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে কুবি শাখা শিবিরের এই নেতা বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন প্রশাসনিক কায়দায় সচিবালয়, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ‘আত্মঘাতী’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মেধাবীদের চলে যেতে হবে রাজনৈতিক কোনো নেতার পায়ে ধরার জন্য। মেধাবীদের ছুটতে হবে হয়তো কোনো মামা-খালুর কাছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করছি, সরকার সরকারি ভবনগুলোকে একটা “আদু ভাইদের পুনর্বাসন কেন্দ্র” হিসেবে চালু করার পাঁয়তারা করছে। আমরা এখান থেকে সরকারকে বলে দিতে চাই, অচিরেই এই সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আপনার দলীয় লোকদের এভাবে সুযোগ না দিয়ে তাদের পড়ার টেবিলে বসান। মেধাবীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে তারা যেন সেই জায়গায় যেতে পারে, তাদের সেভাবে উদ্বুদ্ধ করুন।’
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ ছাড়া কুবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রআন্দোলনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা, স্বচ্ছতা ও বৈষম্যহীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।