চাকসু ও সিনেট নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি চবি ছাত্রশিবিরের
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শতভাগ আবাসন, আবাসন না পাওয়া পর্যন্ত ভাতা, মেধার ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে হলের সিট বণ্টন ও পরিবহন ব্যবস্থার সংস্কারের পাশাপাশি চাকসু ও সিনেট নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানিয়েছে চবি শাখা ইসলামি ছাত্রশিবির।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেন চবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি।
তিনি বলেন, চবির প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য পর্যায়ক্রমে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে হবে। নতুন বহুতল আবাসিক হল নির্মাণ, বিদ্যমান হলের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, পুরোনো হল সংস্কার ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য সুনিদিষ্ট সময়সীমাসহ রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে। শুধু ‘হল নির্মাণ করা হবে’ এমন আশ্বাস আর নয়।
কতটি হল হবে, কত আসন বাড়বে, কবে কাজ শুরু হবে এবং কবে শিক্ষার্থীরা উঠতে পারবে। তার লিখিত পরিকল্পনা প্রকাশ করতে হবে। যতদিন পর্যন্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে হলে থাকার সুযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ততদিন অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য যৌক্তিক ও সম্মানজনক আবাসন ভাতা চালু করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন দিতে না পারার আর্থিক বোঝা শিক্ষার্থীদের পরিবারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।
আশা করব, আগামী তিন দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শতভাগ আবাসনের একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরবে।
তিনি আরও বলেন, শাটল ট্রেনের বগি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত বাস সংযোজন, প্রয়োজনীয় রুটে বাস বৃদ্ধি, সময়সূচির শৃঙ্খলা, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনে ট্র্যাকিং ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন ক্লাসে যাওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা না করেন এবং সন্ধ্যার পর নিরাপদে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, সিট বণ্টনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। কোন রাজনৈতিক সংগঠন, ছাত্রনেতা, শিক্ষক, কর্মকর্তা কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশে সিট বরাদ্দের সুযোগ রাখা যাবে না। সিট হবে মেধার ভিত্তিতে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।
আরও পড়ুন: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিয়ন্ত্রক ইউজিসিতেই অনিয়মের পাহাড়, সরকারের ক্ষতি ১৬৩ কোটি
চবি শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে চাকসু নির্বাচন এবং সিনেট নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তফসিল ঘোষণা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি ছাড়া শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। চাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম।
এ ছাড়া তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতি মুক্ত করণের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় শুধু মেধার ভিত্তিতে হলের সিট বন্টন নিশ্চিত করতে হবে। সম্প্রতি ছাত্রদল কর্তৃক অবৈধভাবে সিট দখলের অপচেষ্টা এবং বিভিন্ন হলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের সুপারিশের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আসন বরাদ্দ দেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলছি, হলের সিট পাওয়া শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার আর সেটা সুষ্ঠুভাবে বন্টন করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু প্রশাসন যদি কাউকে সুবিধা দেওয়ার জন্য মেধার ভিত্তিতে সিট না দিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় সিট বরাদ্দ দেয়, তবে আমরা এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হব।’
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চাকসু ভিপি ও চবি ছাত্রশিবির সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ খালেদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব, অর্থ সম্পাদক ইসহাক, অফিস সম্পাদক রবিউল ইসলাম, ছাত্র অধিকার সম্পাদক রবিউল ইসলাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি সম্পাদক হারেস মাতব্বরসহ সংগঠনটির অন্য নেতাকর্মী।