২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩২

জাবিপ্রবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাকিল আহমেদকে বহিষ্কার

শাকিল আহমেদ, জাবিপ্রবি ও ছাত্রদলের লোগো   © টিডিসি সম্পাদিত

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাকিল আহমেদকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। একই সঙ্গে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম আবদুল্লাহ আল মাসুদকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের অনুমোদনক্রমে সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাকিল আহমেদকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংগঠনের সাংগঠনিক গতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার স্বার্থে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম আবদুল্লাহ আল মাসুদকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এই সিদ্ধান্ত আসে জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অভিযোগ সামনে আসার পর। সর্বশেষ গত ২১ আগস্ট শাখা ছাত্রদলের দুই নেতা শাকিল আহমেদের বিরুদ্ধে মারধর, হুমকি ও আবাসিক হলের সিট দখলের অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হল প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগকারী মো. আমান উল্লাহ জানান, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের ৩০৮ নম্বর কক্ষের বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, তাকে কক্ষে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তার বরাদ্দকৃত সিটে শাকিল আহমেদ অবস্থান করেন। এ ঘটনায় নিজের সিট ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে ছাত্রদল নেতা এস এম ইফতে খায়রুল অভিযোগ করেন, গত ২০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আন্তঃবিভাগীয় খেলা চলাকালে তাকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়। পরে তাকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে মাঠের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার দাবি জানান এই নেতা।

ঘটনার বিষয়ে সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক ইমরুল কবির বলেন, মাঠে খেলা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতি হাতাহাতির পর্যায়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে যান বলে জানান।

অভিযোগের বিষয়ে শাকিল আহমেদ তা অস্বীকার করেন। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমান উল্লাহকে হলে প্রবেশে বাধা দেওয়া কিংবা তার বরাদ্দকৃত সিট দখলের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাদীকুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও হল প্রশাসন সমাধানের চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, প্রক্টরিয়াল বডি ও প্রভোস্ট বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছেন এবং উপাচার্যও বিষয়টি অবগত আছেন। তিনি দ্রুত বিষয়টির সমাধানের আশাও প্রকাশ করেন।

এর আগে শাকিল আহমেদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক সমর্থনে গণস্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ নিয়েও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের সমর্থনে স্বাক্ষর করতে রাজি না হওয়ায় তাকে হল থেকে বের করে দেওয়ার এবং মামলার ভয় দেখানো হয়েছিল। তবে ওই সময় শাকিল আহমেদ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের বক্তব্য দেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে শাকিল আহমেদের নাম আলোচনায় আসে। অভিযোগকারীদের একজন দাবি করেন, চাকরির আশ্বাসে তিনি ধাপে ধাপে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন এবং টাকা জোগাড় করতে পরিবারের দুটি গরু বিক্রি করেছেন। আরেক অভিযোগকারী ৯০ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি করেন। ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করার অভিযোগও ওঠে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন এবং অভিযুক্তরাও অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আইনগত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের ৩৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ওই কমিটিতে শাকিল আহমেদকে আহ্বায়ক করা হয়। প্রায় দেড় বছর পর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে এ কে এম আবদুল্লাহ আল মাসুদ ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তবে নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন বা বর্তমান কমিটির বিষয়ে পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্তের কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এ সিদ্ধান্তের পর জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং নতুন নেতৃত্বের অধীনে সংগঠনটির কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হয়, সেটিই এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।