২০ আগস্ট ২০২৬, ২১:৩৬

রাকসুর ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল  © টিডিসি ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়। 

পরে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবন-১-এর সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন নেতাকর্মীরা। মিছিলে রাকসুর নেতাদের বিরুদ্ধে ‘ক্যাম্পাসের নতুন চোর, রাকসু তুই টাকা চোর’, ‘হৈহৈ রৈরৈ, আমার টাকা গেল কই’, ‘ভিপির বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘জিএসের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘আম্মারের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘আমার টাকা গেল কই, রাকসু তুই জবাব দে’ এবং ‘গলি গলি মে চোর হ্যায়, রাকসু তু চোর হ্যায়’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়। 

সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে একসময় একজন মেয়র ছিলেন। তিনি ৪০ জন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে আলিবাবার চল্লিশ চোরের মতো লুটপাট করেছিলেন। আমরা জানতে চাই, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসুর নেতাদের এক বছরের মধ্যে এত টাকা কীভাবে দেওয়া হলো? আমরা তাকে বলতে চাই, আপনি যদি আলিবাবা হতে চান, তাহলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চল্লিশ চোর কোথায়? রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০ চোর নেই, এখানে ১০ চোর রয়েছে। তাদের নেতা এই জিএস সন্ত্রাসী সালাহউদ্দিন আম্মার।

তিনি আরও বলেন, আলিবাবার চল্লিশ চোরকে সরাতে যেমন সময় লাগেনি, তেমনি এই ১০ চোরকেও সরাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সময় লাগবে না।

এ সময় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, আমরা শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করি। ফুটবল বিশ্বকাপেও আমরা শিক্ষার্থীদের খেলা দেখার ব্যবস্থা করেছিলাম। যে বড় পর্দা আমরা ব্যবহার করেছিলাম, রাকসুর তথাকথিত ফকিন্নির বাচ্চারা একই পর্দা ব্যবহার করেছে। সেখানে আমাদের মাত্র ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। অথচ তারা ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা খরচ করেছে।

তিনি আরও বলেন, রাকসুর বিভিন্ন সম্পাদকের কাছে এসব টাকার হিসাব জানতে চাওয়া হলে তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছেন। রাবি প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, অনতিবিলম্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের টাকা যারা আত্মসাৎ করেছে, তাদের কাছ থেকে সেই টাকা উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের ফেরত দিতে হবে। আমরা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আগামী রোববার উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করব।

বিক্ষোভ মিছিলে শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।