১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৩৪

নাটোরের লালপুরে ছাত্রদলের তিন কর্মীকে বহিষ্কার

ছাত্রদলের লোগো  © সংগৃহীত

নাটোরের লালপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তিনজন কর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংগঠনের সিদ্ধান্তের বৈধতা ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের প্যাডে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনজনকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। 

বহিষ্কৃত কর্মীরা হলেন মো. জাহিদ হোসেন, মো. শফিকুল ইসলাম (শফিক) ও মো. মামুন আলী।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত ১২ আগস্ট লালপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে সাংবাদিক সজিবুল ইসলাম হৃদয় (এনটিভি অনলাইন প্রতিনিধি) ও মো. রাশিদুল ইসলাম (মানবজমিন লালপুর উপজেলা প্রতিনিধি) লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।’

তবে ওই বিজ্ঞপ্তিতেই বহিষ্কৃত তিনজনকে ‘লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের কর্মী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের কোনো সাংগঠনিক পদ বা দায়িত্ব নেই।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, তারা যদি উপজেলা ছাত্রদলের কোনো পদ-পদবিতে না থাকেন, তাহলে ‘বহিষ্কার’ করার সাংগঠনিক এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দলের শৃঙ্খলা, ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক স্বার্থের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড ছাত্রদল কখনো মেনে নেবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সব নেতাকর্মীকে বিরত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ বলছেন, সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন হলেও পদ-পদবিহীন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ‘বহিষ্কার’ শব্দের প্রয়োগ সাংগঠনিকভাবে কতটা যথাযথ—তা স্পষ্ট করা দরকার।

অন্যদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা লাঞ্ছনার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. রায়হান কবির সুইট বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তারা পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন, এটি তাদের অধিকার। সাংবাদিক লাঞ্ছনার মতো কোনো কর্মকাণ্ড ছাত্রদলের সাংগঠনিক নীতি ও আদর্শের সঙ্গে যায় না।

আরও পড়ুন: ১৫ আগস্ট উপলক্ষে দোয়েল চত্বরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কার্যক্রম, ঢাবির ২ শিক্ষার্থী আটক

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নাথপাড়া মোড় এলাকায় হঠাৎ বিকট শব্দে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে জুয়েল রানা আহত হন। তবে তিনি নিজে ককটেল বহন করছিলেন, নাকি কোথাও রাখতে গিয়েছিলেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকসানা খাতুন জানান, বিস্ফোরণের খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ টিম পাঠানো হয়েছে। আহত ব্যক্তি ককটেল বহনের সাথে যুক্ত ছিলেন কী না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।