০৮ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৩৯

৫ আগস্টের পর দীর্ঘদিন দেশেই ছিলাম—দাবি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সভাপতির

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন  © টিডিসি সম্পাদিত

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা হারানোর পর শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়েছেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকারা ভারতে গেছেন। তবে শেখ হাসিনা ভারতে পালানোর পর দীর্ঘদিন বাংলাদেশেই আত্মগোপনে ছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আজ শনিবার (৮ আগস্ট) ‘আওয়ামী লীগের নেতারা ভারতে দুই বছর কীভাবে কাটালেন?’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘৫ আগস্টের পর দীর্ঘদিন আমি তো দেশেই ছিলাম। কৌশলগত কারণে বারবার জায়গা বদল করতে হয়েছে। তার মধ্যেই চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম সংগঠন পরিচালনা করার। তখনকার বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দল যেভাবে বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই অনুযায়ী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়েছি। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ দমন-পীড়ন যখন শুরু হলো, তখন স্থান পরিবর্তন করতে হয় আমাকে। তবে আমাদের দলের অনেকেই কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই এখনো আছেন।’

বাংলাদেশে থাকা নেতাকর্মীরাই মূল শক্তি উল্লেখ করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে আমাদের যে নেতাকর্মীরা রয়ে গেছেন, তারাই তো মূল শক্তি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, কমিটিগুলি পুনর্গঠন করা, যেসব মামলা চলছে তাতে সহায়তা দেওয়া, এসব করতেই দিন কেটে যায়। এ ছাড়া সামাজিকমাধ্যমে প্রচারণার কাজ তো আছেই।’

নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এই সভাপতি বলেন, ‘মানসিক আর পারিবারিকভাবে আমি এবং আমরা দেশে ফেরার জন্য প্রস্তুত। রোডম্যাপটা তৈরি, এখন অপেক্ষা করছি টাইমলাইনের জন্য।’

দেশে ফেরার পর সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কেও তাদের ধারণা রয়েছে জানিয়ে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘দেশে ফিরলে আমাদের সঙ্গে কী হতে পারে, ভবিষ্যৎ কী, সে ব্যাপারে আমাদের অবশ্যই ধারণা আছে। ব্যক্তিগতভাবে আর পারিবারিকভাবে মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছি।’

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বশেষ গত বুধবার (৫ আগস্ট) দেশে ফিরে যাওয়ার কথা আবারও বলেছেন, কিন্তু কবে, কীভাবে তিনি দেশে ফিরবেন, সে ব্যাপারে কিছু প্রকাশ করেননি তিনি।