০৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৭

বেরোবিতে আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে হামলার অভিযোগে নিন্দা ছাত্রশিবিরের

ছাত্রশিবির লোগো  © টিডিসি ফটো

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই অভ্যুত্থানভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী চলাকালে ছাত্রদলের হামলা, ভাঙচুর ও নেতাকর্মীদের আহত করার অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আজ রোববার (৩ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের পূর্বনির্ধারিত ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী চলাকালে সন্ধ্যায় ছাত্রদল পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এ সময় স্টল ভাঙচুর করা হয় এবং নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ করা হয়। এতে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক ও বেরোবি শাখার সাবেক সভাপতি সোহেল রানাসহ সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন বলে দাবি করা হয়।

নেতারা আরও বলেন, এর আগেও গত ২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের প্রভোস্টের কক্ষে বৈঠক চলাকালে প্রভোস্টের সামনেই ছাত্রশিবির ও হল সংসদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। তাদের দাবি, অভ্যুত্থান-পরবর্তী ধারাবাহিক এসব ঘটনা প্রমাণ করে শিক্ষার্থী, ভিন্নমত এবং শিক্ষকদের প্রতি সহিংস আচরণ ছাত্রদলের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ক্ষমতার দম্ভ ও অহংকারে ছাত্রদল ফ্যাসিবাদী আচরণের পথেই হাঁটছে। তারা অতীতের সহিংস রাজনৈতিক ধারা থেকে বের হতে পারেনি। এমনকি জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্রলীগের পরিণতি থেকেও শিক্ষা না নিয়ে একই ধরনের সংঘাতমুখী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি করছে। ছাত্রশিবির যখন শিক্ষার্থীদের অধিকার, কল্যাণ ও গঠনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তখন ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ক্যাম্পাসে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

নেতৃবৃন্দের ভাষ্য, নিজস্ব শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচি না থাকায় ছাত্রদল হামলা, নির্যাতন ও ভয়ভীতির মাধ্যমে আলোচনায় থাকার চেষ্টা করছে। অতীতে বুয়েট শিক্ষার্থী সনি হত্যাকাণ্ড, নারী শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন এবং অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তেজগাঁওয়ে কলেজ শিক্ষার্থী হত্যা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, নারী নির্যাতন ও শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনাগুলো তারই প্রমাণ বলে তারা দাবি করেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।