ছাত্র ইউনিয়ন থেকে পদত্যাগের পর যা বললেন মেঘমল্লার বসু
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব ছেড়েছেন মেঘমল্লার বসু। পদত্যাগের পর শনিবার (২৫ জুলাই) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সংগঠনটির সঙ্গে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য মেঘমল্লার বসুর ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
ছাত্র ইউনিয়নের সাথে আমার সম্পর্ক সেই ২০১৩ সাল থেকে। তখন কেবল এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি। ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলির নিরন্তর চেষ্টায় রিক্রুটেড হয়েছিলাম। মোহাম্মদপুরে দুয়েক বছর সংগঠন করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সাথে সম্পৃক্ত হই। তবে সেটা বেশ ছাড়া ছাড়া ভাবে।
পরে ২০১৯ সালে ডাকসুর আগে আমি ছাত্র ইউনিয়নের কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে স্বতন্ত্র জোটের ফর্মেশানে কাজ করি। খুব দ্রুতই এই প্রোজেক্ট নিয়ে আমার মোহভঙ্গ হলে আমি মাস কয়েক পরেই ছাত্র ইউনিয়নে ফিরে আসি। তৎকালীন নেতৃত্ব যদি আমাকে সাদরে ফিরিয়ে না নিত, তাহলে আমার রাজনৈতিক জীবনটা কী হতো! এই চিন্তা আমি প্রায়ই করি৷ ছাত্র ইউনিয়নে ফেরত আসার পরের ছয়টা বছরে আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটা ছিল বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনের ভাঙনকে কেন্দ্র করে পাওয়া প্রাতিষ্ঠানিক অস্বীকৃতি, প্রথাগত শুভানুধ্যায়ীদের একটা বড় অংশের স্যাবোটেজ এই সকল ধকল সহ্য করতে করতে জীবনের স্বর্ণালি সময়টা কখন পার হয়ে গেছে খেয়ালও করি নাই। দুই বছরের বেশি সময় বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক কিছু শিখেছি। এই দীর্ঘ লড়াই শেষে আজ যখন ছাত্র ইউনিয়ন বললে মানুষ আমাদের ফ্যাকশানকেই বোঝে, তখন সামান্য আত্মতৃপ্তি হয়।
তবে যা পেয়েছি তার কিছুই শোধ করে যেতে পারি নাই। ছাত্র ইউনিয়ন যেভাবে আমার মতো আনঅর্থোডক্স একজন অ্যাক্টিভিস্টকে রাজনৈতিক স্পেস দিয়েছে, নেতৃত্বে নিয়ে এসেছে, এটা শুধু ছাত্র ইউনিয়ন বলেই পেরেছে। ছাত্র ইউনিয়ন আমার কাছে একটা স্কুলের মতো। রাজনৈতিক শিক্ষার স্কুল। স্কুল শেষ করে একেকজন মানুষ একেক জায়গায় যায় বটে, কিন্তু স্কুলের আইডেন্টিফিকেশনটা একটা মার্কারের মতো থেকে যায়। ছাত্র ইউনিয়নের শিক্ষা ঠিক সেভাবেই আমার মধ্যে থেকে যাবে। তিন 'স' এর বিরুদ্ধে (স্বৈরাচার, সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা) ছাত্র ইউনিয়নের যে লড়াই, তা চলমানই থাকবে। নতুনেরা পুরানোদের হাত থেকে সাগ্রহে ব্যাটন নিয়ে নেবে। লড়াই থামবে না।
প্রায় তেরো বছরের একটি অধ্যায় যখন সমাপ্ত হয় তখন এত স্মৃতি ভিড় করে, যে একটা দুইটা স্মৃতির কথা আলাদা করে বলা সম্ভব হয় না। যাদের সাথে ছাত্র ইউনিয়ন করেছি সেই সকল সহযোদ্ধাকে আজ কুর্নিশ জানাই। স্মরণ করি, প্রয়াত কমরেড সাদাত মাহমুদ ও রেজাকে। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন দীর্ঘজীবী হোক।
মেঘমল্লার বসু, সাইনিং অফ।