১৭ জুলাই ২০২৬, ২০:০১

বাঁচানো গেল না জবি ছাত্রদল নেতা নিক্সনের স্ত্রীকে, বাঁচেনি গর্ভের সন্তানও

স্ত্রী ও তিন বছরের ছেলে ইহানের সঙ্গে ছাত্রদল নেতা অহিদুজ্জামান নিক্সন  © সংগৃহীত

পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (এসএসএমসি) মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠার ঘটনায় অসুস্থ সেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতার স্ত্রীকে বাঁচানো যায়নি। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। এর আগে গত ২৩ জুন রাতের ওই ঘটনার তিন থেকে চারদিনের মধ্যেই মারা গিয়েছিল তার গর্ভের সন্তান।

মৃত নারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অহিদুজ্জামান নিক্সনের স্ত্রী। নড়াইল জেলায় নিক্সনদের গ্রামের বাড়িতে আজ তার নামাজে জানাযা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এই দম্পতির ইহান নামে একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে। গত ১২ মে তিন বছর পূর্ণ করেছে ইহান।

জানা গেছে, মাত্র ৮ মাস আগে ১০ দিনের ব্যবধানে মা ও বাবাকে হারিয়েছেন নিক্সন। আর দিনবিশেক আগে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই মারা গছে তার স্ত্রীর গর্ভজাত সন্তান। এরই মধ্যে হারাতে হলো স্ত্রীকেও।

গত ২৩ জুন রাতে মিটফোর্ড হাসপাতালে সার্জারি ভবনের চতুর্থ তলায় চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের বিরুদ্ধে। ওই সময় হিমেলের সঙ্গে আরও ১০-১২ জন উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, মেহেদী হাসান হিমেল অহিদুজ্জামান নিক্সনের স্ত্রীর অসুস্থতার খবর শুনে হাসপাতালটিতে গিয়েছিলেন। ওই সময় চিকিৎসকরা অভিযোগ করেছিলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর রোগীর ভর্তিসহ নানা প্রক্রিয়াগত কারণে চিকিৎসা শুরু হতে অন্তত ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় অতিবাহিত হয়। এই ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণ করেন হিমেলসহ ছাত্রদল নেতারা। পরে একদিনের কর্মবিরতিও পালন করেন হাসপাতালটির ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

তবে মেহেদী হাসান হিমেলসহ জবি ছাত্রদল নেতারা ওই সময় বিষয়টি আংশিক অস্বীকার করেছিলেন। তাদের ভাষ্য, নিক্সনের গর্ভবতী স্ত্রীর ক্রমাগত রক্তক্ষরণের কারণে তারা দ্রুত চিকিৎসা শুরুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু এ সময়ে তারা দেরি করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে।

স্ত্রীর মৃত্যুর পর ঢাকা মেডিকেলে ছেলে ইহানকে নিয়ে নিক্সন

ছাত্রদল নেতা নিক্সনের স্ত্রীর বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল শুক্রবার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ওনার রক্তক্ষরণ বন্ধ করা যায়নি। মিটফোর্ডের ঘটনার তিন-চারদিন পরেই গর্ভের সন্তানটি মারা যায়। পরে ভাবিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু গতকাল রাতে তিনিও মারা গেছেন। আরেকটু দ্রুত চিকিৎসা পেলে হয়তো ভালো হতো, কিন্তু সেটি শুরু করা যায়নি।

হিমেল বলেন, অহিদুজ্জামান নিক্সন একজন নির্যাতিত ছাত্রনেতা ও আমার সহযোদ্ধা। প্রথম বর্ষ থেকেই আমরা একসাথে রাজনীতি করেছি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ২০১৫ সালে একটি মামলায় আমরা একসঙ্গে এক বছর কারাবরণ করেছিলাম। আমরা তার স্ত্রীর মৃত্যুতে শোকাহত।