১৩ জুলাই ২০২৬, ২০:৪৯

ছাত্রদল নেতা তরিকুলের স্ট্যাটাস, চাইলেন ত্যাগের মূল্যায়ন

মো. তরিকুল ইসলাম তারিক  © ফাইল ফটো

ক্ষমতাসীন বিএনপির অন্যতম সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বলেছেন, রাজনীতি তার কাছে কখনোই ক্ষমতা কিংবা পদ-পদবী অর্জনের সিঁড়ি ছিল না; বরং ছিল আদর্শ, নৈতিকতা ও বিবেকের কাছে করা এক আজীবনের অঙ্গীকার। সেই বিশ্বাসকে ধারণ করেই দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম। 

দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের নতুন কমিটির গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে-অতি শিগগিরিই ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা দেবে বিএনপির হাইকমান্ড। কমিটির গুঞ্জনকে সামনে রেখে তারিখ নিজের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে ফেসবুকে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, আদর্শের প্রশ্নে আপস না করায় বারবার হামলার শিকার হতে হয়েছি, কারাবরণ করতে হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতেও আহত হতে হয়েছি। সেই গুলির ক্ষতচিহ্ন আজও তার শরীরে বহন করছি। তার ভাষায়, প্রতিটি ক্ষতই তাকে মনে করিয়ে দেয়—আদর্শের পথে চলার মূল্য কখনো সহজ নয়।

স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত লাভ, পদ-পদবী কিংবা করতালির আশায় রাজনীতিতে আসেননি। বরং অন্যায়, দমন-পীড়ন ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়ানোকে নিজের রাজনৈতিক দায়িত্ব ও নৈতিক কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। দুঃসময়ে দলের পাশে থাকা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখাই ছিল তার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারিক বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের কঠিন সময়ে যারা সম্মুখসারিতে থেকে ত্যাগ স্বীকার করেন, সুসময়ে তাদের অনেকের অবদানই যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয় না। তবুও এই বাস্তবতা তাকে কখনো হতাশ বা আদর্শচ্যুত করতে পারেনি। তার বিশ্বাস, সাময়িক বঞ্চনা একজন আদর্শবান কর্মীর পথচলাকে থামিয়ে দিতে পারে না।

দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, নেতৃত্বের ওপর তার বিশ্বাস অটুট। তিনি মনে করেন, সত্যকে হয়তো কিছু সময়ের জন্য চাপা দেওয়া যায়, কিন্তু ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যায় না। ত্যাগের মূল্যায়ন বিলম্বিত হতে পারে, তবে প্রকৃত ত্যাগীদের অবদান একদিন অবশ্যই স্বীকৃতি পায়।

তিনি আরও বলেন, রক্ত, ত্যাগ ও অশ্রু দিয়ে যে আদর্শের পথ নির্মিত হয়েছে, সেই পথ থেকেই তিনি কখনো সরে দাঁড়াবেন না। ভবিষ্যতেও দেশের গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার এবং দলের আদর্শ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন শুধু নৈতিক দায়িত্বই নয়, সাংগঠনিক শক্তি ও ঐক্য ধরে রাখারও অন্যতম পূর্বশর্ত। আন্দোলন-সংগ্রামে আত্মত্যাগী কর্মীদের সম্মান ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা গেলে তা দলের প্রতি নতুন প্রজন্মের আস্থা ও অংশগ্রহণ আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হতে পারে।

রাজনীতিতে ব্যক্তিগত প্রাপ্তির চেয়ে আদর্শকে বড় করে দেখার যে বার্তা মো. তরিকুল ইসলাম তারিক তুলে ধরেছেন, সেটি ত্যাগ, নিষ্ঠা ও আদর্শনির্ভর রাজনৈতিক চর্চার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।