১৩ জুলাই ২০২৬, ১৫:৪০

ছাত্রশিবিরকে বিদায় জানালেন সাদিক কায়েম

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম  © সংগৃহীত

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি ও সংগঠনটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাদিক কায়েম। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) তিনি নিজেই দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাদিক কায়েম জানিয়েছেন, ছাত্রশিবিরের বছরে দুইবার সেটআপ হয়। ২০২৬ সালের ষাণ্মাসিক সেটআপে আমার বিদায় হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাদিক কায়েম ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ঘোষিত হয়েছেন আরও দুই মাস আগে। গত ১ মে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) কাউন্সিল হলে আয়োজিত থানা ও বিভাগীয় দায়িত্বশীল সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

এই ঘোষণার পর ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ছাত্রশিবিরের পদে থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে নির্বাচন করার সুযোগ নেই।

বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাদিক। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ও মাঠ পর্যায়ে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকায় আলোচনায় আসেন তিনি।

সাদিকের শিক্ষাজীবন শুরু হয় খাগড়াছড়িতে বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া আদর্শ মাদ্রাসায়, সেখানে তিনি ২০১৪ সালে দাখিল এবং পরবর্তীকালে বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসা থেকে ২০১৬ সালে আলিম পাস করেন। এরপরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

জানা গেছে, সাদিক কায়েম ২০১৩ সালে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি হিসেবে তিনি প্রথম প্রকাশ্যে আসেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির পরিচয়ে প্রকাশ্য রাজনীতি এক প্রকার নিষিদ্ধ ছিল। তবে ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পূর্বে চট্টগ্রামে তিনি প্রকাশ্যে ছাত্রশিবিরের আওয়ামী সরকারবিরোধী আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর পূর্বে ২০২৫-২০২৬ সেশনে তিনি কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে সাদিক কায়েম ‘সালমান’ ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন। এই নামে তিনি অভ্যুত্থানের সম্মুখসারিতে থাকা সংগঠকদের আশ্রয় ব্যবস্থা, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করা, প্রতিদিনের কর্মসূচি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং গণমাধ্যমে নয় দফাসহ সকল আন্দোলনের সংবাদ পৌঁছে দেওয়া প্রভৃতি কাজে যুক্ত হন। তিনি সালমান নামে আল জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন।

সাদিক কায়েম রাজনীতি করার পাশাপাশি বিভিন্ন অরাজনৈতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি স্টুডেন্টস এগেইনস্ট ভায়োলেন্স এভরিহোয়্যারের (সেইভ) পরামর্শদাতা কর্মী ছিলেন, এই সংগঠন শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করত। তিনি বাংলাদেশ ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভের জেনারেল সেক্রেটারিও ছিলেন। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদের সভাপতি ছিলেন সাদিক। পাহাড়ি জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিল সোসাইটিও প্রতিষ্ঠা করেন।

ধারণা করা হচ্ছে, ছাত্রশিবির থেকে বিদায়ের পর তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেবেন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন।