এবার ইইউ-ইউএন উইমেনের দুই ফেলোশিপ পেলেন ছাত্রদল নেত্রী নওরীন
আন্তর্জাতিক নারী নেতৃত্বের মঞ্চে নতুন অর্জন যুক্ত হলো বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেত্রী জান্নাতুল নওরীন উর্মির ঝুলিতে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএন উইমেনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ‘সাউথ এশিয়া ইয়ং উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট একাডেমি’ ফেলোশিপের জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে এবার ইইউ-ইউএন উইমেনের দুই ফেলোশিপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন নওরীন।
সম্প্রতি আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে তার মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জান্নাতুল নওরীন বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ‘উইমেন অ্যান্ড ইয়ুথ ইন ডেমোক্রেসি’ (ওয়াইড) উইমেনস লিডারশিপ ইনিশিয়েটিভের আওতায় এই ফেলোশিপ দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএন উইমেনের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে পরিচালিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নারী ও তরুণদের নেতৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বাড়ানো।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ২৩ ও ২৪ জুলাই ২০২৬ থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হবে একটি আন্তঃআঞ্চলিক সংলাপ। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন জান্নাতুল নওরীন উর্মি। এই আয়োজনের মাধ্যমে জেন্ডারভিত্তিক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং নারী নেতৃত্ব বিকাশে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।
নিজের এই অর্জন নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করে জান্নাতুল নওরীন উর্মি বলেন, 'আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া অত্যন্ত মর্যাদার। এমন একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে অংশ নিয়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জিত হবে, তা পরবর্তীতে দেশে যুব ও নারী নেতৃত্ব শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের তরুণ নারীদের সম্ভাবনা ও নেতৃত্বের সামর্থ্য তুলে ধরার একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হবে।'
এর আগেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন জান্নাতুল নওরীন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের মনোনীত ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে তিনি চীন সফর করেন। এছাড়া এর আগে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক ফেলোশিপেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।
রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় জান্নাতুল নওরীন অতীতে সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন। ২০২০ সালের ১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরীক্ষা শেষে হল থেকে বের হওয়ার পর তিনি হামলার শিকার হন। ওই ঘটনায় তাকে মারধর করা হয় এবং কম্পাসের কাঁটা দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন থাকার পরও সেই ঘটনার শারীরিক জটিলতা ও মানসিক চাপ বহন করে চলেছেন তিনি।
সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক নারী নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ এই ফেলোশিপে তার মনোনয়ন বাংলাদেশের তরুণ নারীদের নেতৃত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে একটি অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।