০৭ জুলাই ২০২৬, ১৫:১৩

রাতের আঁধারে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টারিং

রাতের আঁধারে পোস্টার সাঁটিয়েছে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ  © সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) রাতের আঁধারে পোস্টার সাঁটিয়েছে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা। গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) রাতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পোস্টারিংয়ের কয়েকটি ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করার পর বিষয়টি ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে আজ সকালে তা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও শেয়ার করা হয়। 

ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের প্রশাসন ভবন, ঝাল চত্বর, রবীন্দ্র নজরুল কলা ভবন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এবং সাইন্স ফ্যাকাল্টির গেটে এসব পোস্টার ও ব্যানার টাঙানো হচ্ছে। এ সময় ইবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মাসুদ রানা এবং রতন রায়কে দেখা গেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর সরেজমিনে ক্যাম্পাসের অধিকাংশ জায়গার পোস্টার দেখা যায়নি।

এসব পোস্টারে প্রত্যাবর্তন ২.০ লোডিং, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার; রাস্তাঘাটে লেইখা দে, শেখের বেটি আইতাছে; একটা স্লোগানকে তোরা এতো ভয় পাস? শামীম মোল্লা, মাসুদ, তোফাজ্জল সহ বিচারবহির্ভূত হত্যার সুষ্ঠু বিচার কর‍তে হবে; শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কারণে দেওয়া বহিষ্কারাদেশ অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করে শিক্ষার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে ইত্যাদি স্লোগান দেখা যায়। 

তবে এসব ছবি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরে ক্ষোভ জানিয়েছেন ইবির ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। 

ইবি ছাত্রশক্তির আহবায়ক ফুয়াদ হাসান লিখেছেন, রাতের আধারে নিষিদ্ধ সংগঠন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে, রাতের আধারে খুন করে লাশ পুকুরে ভাসানো হয় আর প্রক্টরিয়াল বডি নাকে তেল দিয়ে ঘুমায়। এর জবাব বর্তমান ইবি প্রশাসনকে দিতে হবে।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী এ ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশে কোন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের স্থান হবে না। রাতের আঁধারে পোস্টার টাঙিয়ে অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা হাস্যকর। বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা কখনোই সফল হতে দেওয়া হবে না। যতদিন জুলাই যোদ্ধারা জীবিত আছে, ততদিন বাংলার মাটিতে কোন ফ্যাসিবাদী সংগঠনকে স্থান দেওয়া হবে না। 

শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ভাইবোনদের রক্তের দাগ এখনো শুকায় নাই। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের শিক্ষার্থীদের উপর যে নির্যাতন নিপীড়ন করেছে তার ক্ষত এখনো রয়ে গেছে। এর মধ্যেই ক্যাম্পাসে তাদের অপতৎপরতা কোনোমতেই মেনে নেওয়া হবে না। শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত এই নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের অপতৎপরতা রুখে দেওয়া হবে। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, রাত তিনটার দিকে ঘটনার ঘটার সাথেই আমি সিকিউরিটি পাঠিয়ে সব নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। তারা কীভাবে গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকলো সেটা নিয়ে সিসি টিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দেখা হচ্ছে। রাতেই ইবি থানার ওসির সাথে কথা হয়েছে এবং তাদের হাতে সব হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে।