গবেষণাখাতে বরাদ্দ ইউজিসির অধীনে নয়, সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে হবে
গবেষণা খাতের বরাদ্দ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অধীনে না রেখে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। গবেষণা তহবিল ইউজিসি’র মাধ্যমে পরিচালনা করা হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীন গবেষণার পরিপন্থী কলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৩টায় মধুর ক্যান্টিন-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের মোট বাজেটের ১০ থেকে ২৫ শতাংশ গবেষণায় ব্যয় করলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে বরাদ্দ খুবই সীমিত। এবার গবেষণা তহবিল সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়কে না দিয়ে ইউজিসির কাছে রাখার সিদ্ধান্তকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের ধারণার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়। সংগঠনটির দাবি, কোন বিষয়ে গবেষণা হবে এবং গবেষণা খাতে কীভাবে বরাদ্দ ব্যয় হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের থাকা উচিত।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বাজেটে গবেষণা, আবাসন, খাদ্য, চিকিৎসা, পরিবহনসহ শিক্ষার্থী স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। বাজেটের বড় অংশ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও পরিচালন ব্যয়ে ব্যয় হবে বলে দাবি করা হয়। এর ফলে উচ্চশিক্ষার ব্যয় আরও বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ কমিয়ে উচ্চশিক্ষাকে ধীরে ধীরে বেসরকারিকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণের দিকে নেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ আয় বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বেতন, ভর্তি ও অন্যান্য ফি বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক কোর্স চালু এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ভাড়ার মতো পদক্ষেপকে উৎসাহিত করবে। এসব উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা খাতে সরাসরি বরাদ্দ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়ে এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।