২১ জুন ২০২৬, ২৩:২২

শিবির নেতা সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে শাহবাগে বিক্ষোভ

ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল  © সংগৃহীত

গাইবান্ধায় বিএনপির সন্ত্রাসী হামলায় ছাত্রশিবিরের ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল্লাহ হত্যার ঘটনায় খুনীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির। রবিবার (২১ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভটি শুরু হয়ে শাহবাগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এ সময় বিএনপির অনেকগুণ, গাইবান্ধায় শিবির খুন, ১০০ দিনে ৬০০ খুন, বিএনপির অনেকগুণ, আমার ভাই কবরে, খুনী কেন বাহিরে ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়। 

সমাবেশে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলে, আজকে বিকেলে গাইবান্ধায় স্থানীয় যুবদল কর্তৃক অত্যন্ত নৃশংসভাবে শিবির কর্মী সাইফুল্লাহকে খুন করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। 

তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে আপনাদের সাথে ফ্যাসিবাদের গুম খুনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। কিন্তু আপনারা ক্ষমতায় এসে একই ফ্যাসিবাদী পন্থা অবলম্বন করেছেন। তোমরা জেনে রেখো, এই রক্ত একদিন তোমাদের মসনদকে কাঁপিয়ে দিবে। আমরা শান্ত রয়েছি। আমরা বাংলাদেশে সুস্থ ধারার রাজনীতি চাই। আমরা তোমাদের সতর্ক করছি। সতর্ক যদি না হও, তাহলে ৫ বছরও টিকে থাকতে পারবে না।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন সাহেব বড়ো বড়ো কথা বলে, কিন্তু মানুষ খুনের বিচার করতে পারেনা। অনতিবিলম্বে সাইফুল্লাহসহ গত কয়েকমাসের সকল খুনের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা এই শাহবাগ থেকে বলতে চাই, ইসলামি ছাত্রশিবির কচুপাতার ওপর ভেসে থাকা পানি নয়। ইসলামি ছাত্রশিবিরের কোন নেতাকর্মীর ওপর আঘাত করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে শিবির তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে।

বিক্ষোভ সমাবেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ছাত্রনেতা আজিজুর রহমান আজাদ বলেন, একসময় হাসিনা বলত এ দেশটা তারবাপের দেশ। এখন নব্য ভারতীয় দালাল লীগ পুনর্বাসন সেন্টার হিসেবে খ্যাতখুনি দল বিএনপি কর্মকাণ্ডে প্রমাণ করতে চায় এ দেশটা তাদের বাপের, তাদের দলের।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিএনপিকে বলতে চাই আর কত রক্ত আপনারা চান? আর কত লাশ পড়লে আপনারা শান্ত হবেন? আপনারা দেখেছেন ইতোমধ্যে বিএনপি ক্ষমতায় আসার বিগত ১০০ দিনে ৬০০-এর অধিকমানুষকে খুন করেছে।  

এছাড়াও তিনি বলেন, স্কুল কমিটি সভাপতি নিযুক্ত করে কমিটি দেয় ইউএনও। যে সমস্ত ইউএনও এবং ডিসিরা বিএনপিকে অন্যায়ভাবে স্কুল-কলেজ দখল করতে উৎসাহ প্রদান করছেন, স্পেস দিচ্ছেন, আমরা বলতে চাই এ সমস্ত অবৈধ দখলকানা পা-চাটা ইউএনও এবং ডিসিকে অবশ্যই অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। পুলিশকে বলতে চাই এখন পর্যন্ত আপনারা খুনিদের গ্রেফতার করেন নাই। আমরা বলব দয়া করে চোখ থেকে বিএনপির চশমা খুলে জনগণের সেবকের চশমা পরিধান করে দেখার চেষ্টা করুন। 

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি কাজী আশিক, ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।