ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় ৩৪ তম, বোর্ড পরীক্ষায় স্ট্যান্ড হয়নি মাত্র ২ নম্বরের জন্য
স্কুল ও কলেজ জীবনের নানা স্মৃতি, এইচএসসিতে মাত্র ২ নম্বরের জন্য ‘স্ট্যান্ড’ করতে না পারার আক্ষেপ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগে ভর্তির পর ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার অজানা গল্প জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল। তিনি বর্তমানে বিএনপির সহস্বেচ্ছাসেবা বিষয়ক সম্পাদক।
আজ বুধবার (৩ জুন) বিকেলে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে পাঠকদের সামন এসব অধ্যায় তুলে ধরেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণির ‘স্টাইপেন্ড’ পাওয়া এই মেধাবী ছাত্রনেতা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরই মূলত তার সক্রিয় ছাত্ররাজনীতি শুরু হয়েছিল।
ফেসবুক পোস্টে জীবনের গল্প জানিয়ে তিনি লিখেছেন, স্কুল জীবন শুরু করেছি মালিবাগে অবস্থিত শহীদ ফারুক ইকবাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। এখানে আমি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ি। এরপর ক্লাস সিক্সে মতিঝিল আইডিয়াল এবং খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়— এই দুই স্কুলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে দুটিতেই কৃতকার্য হই। খিলগাঁও গভমেন্ট স্কুল আমার বাসার কাছে হওয়ায় এবং বড় দুই ভাই ওই স্কুলে পড়তো বিধায় আমি খিলগাঁও গভমেন্ট স্কুল বেছে নেই। তখন স্কুলের মানও অনেক ভালো ছিল। ঢাকার হাতেগোনা কয়েকটি ভালো স্কুলের মধ্যে এটিও ছিল।
স্কুল জীবনে ছাত্র মোটামুটি ভালো ছিলাম উল্লেখ করে জুয়েল লিখেছেন, কখনো প্রথম হয়েছি, কখনো তিনজনের মধ্যে ছিলাম, আবার কখনো প্লেস করতে পারিনি। ১৯৮৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান শাখায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা কলেজে ভর্তি হই। কলেজে আমি বিজ্ঞান শাখা পরিবর্তন করে বাণিজ্য শাখায় ভর্তি হই ১৯৮৭ সালে।
কলেজ জীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি লিখেছেন, কলেজে উঠে সাধারণত যা হয়, নিজেকে একটু সিনিয়র ভাবতাম। ক্লাস করা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা, মাঝে মাঝে কলেজ ক্যান্টিনে বা হলে গিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে গল্প, একটু ভাবসাব নিয়ে ঘুরে বেড়ানো, বিশেষ সময়ে কখনো মিছিলে অংশগ্রহণ। তবে এরমধ্যেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতাম নিয়ম করে। এভাবেই কেটে যায় দুই বছর।
এইচএসসি পরীক্ষায় স্ট্যান্ড করতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে সাবেক এই ছাত্রনেতা লিখেছেন, এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি ১৯৮৯ সনে। পরীক্ষা দিয়ে খুব আশাবাদী ছিলাম স্ট্যান্ড করবো। তখন পুরো বিভাগের প্রাপ্ত নাম্বারে প্রথম ২০ জনের মধ্যে থাকাটাই ছিলো স্ট্যান্ড করা। প্রথম থেকে ক্রমানুসারে ২০তম স্থানের তালিকা প্রকাশ করা হতো। সাধারণত প্রথম ২০ জনের প্রাপ্ত নাম্বারে প্রার্থক্য ক্রমানুসারে ১-৩ মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতো।
তিনি লেখেন, রেজাল্ট দেওয়ার পর জানতে পারলাম আমি স্ট্যান্ড করিনি। আমার মনটাই খারাপ হয়ে যায়। এটা দেখে আব্বা বললেন মন খারাপ করার কি আছে, তুই তো ফার্স্ট ডিভিশন পেয়েছিস। আমি বললাম, আব্বা আমি পরীক্ষা দিয়ে মোটামুটি ধারণা করেছি আমি কত নাম্বার পাবো। আগের বার অর্থাৎ ১৯৮৮ সালে ২০তম স্ট্যান্ড যত নাম্বার পেয়ে করেছিল, আমি তার চেয়ে বেশি নাম্বার পাবো— এটা আমার কনফিডেন্স ছিল। তাই মন খারাপ।
৩-৪ দিন পর কলেজে গিয়ে ট্যাবুলেশন শিট থেকে প্রাপ্ত নাম্বার জানতে পারেন জুয়েল। তিনি লিখেছেন, নাম্বার জেনে মন আরো বেশি খারাপ হয়ে যায় এ কারণে যে সবশেষ স্ট্যান্ড করা ছাত্রের প্রাপ্ত নাম্বার আর আমার প্রাপ্ত নাম্বারে ২ মার্কের প্রার্থক্য ছিল। আব্বা এবার মেনে নেন আমার মন খারাপ হওয়াটা যৌক্তিক। আমি যদিও আগের বছরের ২০তম স্ট্যান্ডের প্রাপ্ত নাম্বারের চেয়ে ১৩ নাম্বার বেশি পেয়েছিলাম।
এ সময়ের একটি ‘মজার বিষয়’ পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি। লিখেছেন, আমার চেয়ে ১ নাম্বার বেশি পেয়েছিল যে, সে পেপারে ২১তম স্ট্যান্ড করেছে বলে নিউজপেপারে কৃতি ছাত্র হিসেবে বিজ্ঞপ্তি দেয়। আমি এটা দেখে দুষ্টমি করে তাকে বলি তুই যদি আগে জানাতি তাহলে আমিও তোর সাথে ২২তম হিসেবে দিতে পারতাম।
তিনি আরও লিখেছেন, এরপর শুরু করি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি। ১৯৮৯-৯০ সেশনের গ ইউনিটের লিখিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মেধা তালিকায় সিরিয়াল নাম্বার হয়েছিল ৩৪। ভাইভার মাধ্যমে বাণিজ্য অনুষদের ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হই। পেয়ে যাই মেধাবী ছাত্র হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রদত্ত স্টাইপেন্ড এবং তার গ্রেড ছিল প্রথম শ্রেণির। এরপর পড়াশোনার পাশাপাশি শুরু হয় ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ।