২৭ মে ২০২৬, ০৮:৩৭

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের কোরবানির আয়োজন, শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে বিশেষ খাবার

ছাত্রশিবিরের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের থাকবে বিশেষ খাবার  © সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কুরবানি ও প্রীতিভোজের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন শাখা। ঈদের সময় পরিবার থেকে দূরে থাকা শিক্ষার্থীদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে এসব আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটির নেতারা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘মেজবান-ই ঈদ’ শীর্ষক বিশেষ আয়োজন করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার (২৬ মে) জাবি শিবিরের সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ঈদের দিন দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকবে ঐতিহ্যবাহী মেজবানি ভোজ এবং পারস্পরিক ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ।

আয়োজকদের ভাষ্য, ঈদের সময় নানা কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে অবস্থান করেন এবং পরিবারের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারেন না। তাদের জন্য ঈদের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত ও অর্থবহ করে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম বলেন, “ঈদের সময় অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে থাকেন এবং নানা কারণে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন না। তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন। একই সঙ্গে এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি এবং সওয়াবের অংশীদার হওয়ার একটি প্রয়াস।”

অন্যদিকে, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ঈদুল আযহার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। ঈদের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হলের ডাইনিংয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে।

জানা গেছে, আগামী ২৮ মে ২০২৬, ঈদের দিন দুপুরে “দাওয়াত-এ ঈদ” শিরোনামে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। হলে অবস্থানরত সকল শিক্ষার্থীর জন্য এটি উন্মুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে ছাত্রশিবির শেকৃবি শাখা।

আয়োজনটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আগাম নিবন্ধনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অংশগ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত গুগল ফর্মের মাধ্যমে দ্রুত রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ছাত্রশিবিরের শেকৃবি শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান নাঈম বলেন, ‘একাডেমিক ব্যস্ততা, পরীক্ষা কিংবা দূরত্বের কারণে অনেক শিক্ষার্থীই ঈদের ছুটিতে বাড়ি যেতে পারেন না। পরিবার-পরিজন ছাড়া ক্যাম্পাসের হলের দিনগুলোতে তাদের ঈদের একাকীত্ব দূর করতে এবং ঈদের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতেই আমাদের এই আয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘উৎসবের দিনে হলে থাকা শিক্ষার্থীদের মাঝে এক টুকরো পারিবারিক আবহ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’

ছাত্রশিবিরের এ উদ্যোগকে ইতোমধ্যে ইতিবাচকভাবে দেখছেন অনেক শিক্ষার্থী। তাদের মতে, ঈদের দিনে হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য এমন আয়োজন আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি করবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নুসুক-ই মতিহার’ (মতিহারের কুরবানি) শীর্ষক ব্যতিক্রমী এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।

আরও পড়ুন: নেচার ইনডেক্স-২০২৬ র‍্যাঙ্কিংয়ে স্থান হয়নি হাবিপ্রবির

ঈদের দিন মাগরিবের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদকের বরাতে জানা যায়, এ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ৪টি গরু ও ১টি খাসি কুরবানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। ঈদের সময় নানা কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে অবস্থান করেন। তাদের জন্য উৎসবমুখর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতেই এ আয়োজন করা হচ্ছে।

বিস্তারিত জানতে চাইলে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘ক্যাম্পাসে অবস্থানরত এবং ক্যাম্পাস-সংলগ্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বহু বছর ধরেই কুরবানির আয়োজন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় ঈদের দিন রাতে ডিনারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের এ আয়োজনের নাম ‘নুসুক-ই মতিহার’ অর্থাৎ মতিহারের কুরবানি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ আয়োজনের জন্য ইতোমধ্যে ৪টি গরু ও ১টি খাসি ক্রয় করা হয়েছে। প্রত্যেকটি গরুর ওজন প্রায় ৭-৮ মন। হল ও মেসে অবস্থানরত সকল রাবি শিক্ষার্থী ঈদের দিনের ডিনারে অংশ নিতে পারবে। আমরা সবাইকে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

এছাড়াও ক্যাম্পাসের কর্মচারী এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার যেসব শিক্ষার্থীর পরিবার কুরবানি দিতে পারেনি, তাদের মধ্যেও কুরবানির মাংস বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। হলে ও মেসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ‘ঈদ প্রীতিভোজ’ নামক এক আপ্যায়ন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ঈদের দ্বিতীয় দিন দুপুর ২টায় ক্যাম্পাসের আশপাশের মেস ও আবাসিক হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে গুগল ফর্মের মাধ্যমে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে সংগঠনটি।

এ বিষয়ে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আবদুর রহমান বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা নোবিপ্রবি ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে ঈদ প্রীতিভোজ আয়োজন করতে যাচ্ছি। ঈদ মুসলিম উম্মাহর আনন্দ, ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্বের উৎসব। পরিবার-পরিজনের কাছ থেকে দূরে থাকা অনেক শিক্ষার্থী ঈদের সময় ক্যাম্পাসেই অবস্থান করেন। তাদের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই আমাদের এই আয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়; বরং এটি পারস্পরিক সহমর্মিতা, মানবিক মূল্যবোধ ও ভ্রাতৃত্বচেতনা বিকাশেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। ঈদ প্রীতিভোজ সেই বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আমরা আশাবাদী।’

প্রতিবেদনটিতে তথ্য দিয়েছেন রাবি প্রতিনিধি, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি, শেকৃবি প্রতিনিধি এবং জাবি প্রতিনিধি।