বেরোবিতে ভর্তি ফি কমানো ও বিভাগীয় শহরে বাস চালুর দাবিতে ছাত্রদলের স্মারকলিপি
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ফি বাড়ানোর প্রতিবাদ করে তা পুনর্বহালের দাবি এবং বিভাগীয় শহরে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধায় বাস চলাচলের দাবিতে বেরোবি উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বেরোবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীকে স্মারকলিপি প্রদান করেন বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন, সহ-সভাপতি মো. তুহিন রানাসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।
স্মারকলিপির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা এবং আর্থিক সংকট বিবেচনা করে তিন দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- অতিসত্বর অতিরিক্ত বর্ধিত ফি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামর্থ্য বিবেচনা করে পূর্বনির্ধারিত ফি পুনরায় বহাল করা এবং আর্থিক অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি ও বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
এ সময় বিভাগীয় শহরগুলোতে বাস সার্ভিসের বিষয়ে স্মারকলিপিতে বলা হয়, ঈদের এই সময়ে দেশের সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থায় চরম বিপর্যয় নেমে আসে। টিকিট কালোবাজারি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং ফিটনেসবিহীন দূরপাল্লার বাসের কারণে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থী এবং দূরবর্তী বিভাগীয় শহরের (যেমন: রংপুর হতে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ) শিক্ষার্থীদের জন্য এই সময়ে একটি বাসের টিকিট জোগাড় করা দুরুহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
এমতাবস্থায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস সার্ভিস অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতি বছর যদি ঈদের ছুটির শুরুতে নির্দিষ্ট রুট অনুযায়ী বিভাগীয় শহরগুলোতে শিক্ষার্থীদের পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা (ঈদ স্পেশাল বাস সার্ভিস) চালু করা হয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপদে ও সশরীরে বাড়ি ফিরতে পারবে।
এছাড়াও ঈদুল আযহার ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল গুলোতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও বিশেষ খাবার প্রদানের আবেদনটিও জানানো হয়।
এ বিষয়ে বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, আগের যে প্রশাসন ছিলো তারাই ভর্তি ফি সহ অন্যান্য ফি বৃদ্ধি করেছে। গতবারেও ১৬ তম ব্যাচের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে বলে আমি মিনিমাইজ করেছি। ১৭তম ব্যাচের ফি যে পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে তা ঐ তুলনায় কম। যদি ফি কিছুটা কমানো হয় তবুও এটা একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এসময়, বাস চালুর বিষয়ে পরিবহন পুলের সাথে আলোচনায় বসা হবে বলেও জানান তিনি। এবং শিক্ষার্থীদের দাবির আগেই ঈদুল আজহার দিন বিশেষ খাবার আয়োজনের কমিটি ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে।