জেন্ডার সেইফ ক্যাম্পাসের দাবিতে জাতীয় ছাত্রমঞ্চের মানববন্ধন
দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে “জেন্ডার সেইফ ক্যাম্পাস” হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে মানববন্ধন করেছে জাতীয় ছাত্রমঞ্চ। একই সঙ্গে মাদ্রাসাগুলোতে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে সংগঠনটির নেতারা বলেন, “মাদ্রাসাসমূহকে কওমে লুতের অনুসারীমুক্ত” করতে হবে এবং এ বিষয়ে আলেম-ওলামা ও সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন বক্তারা।
মানববন্ধনে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)-এর আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ, আত্মহত্যা ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো শিক্ষার্থীদের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ হয়ে ওঠেনি।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে পুরুষ শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মিমোর অপমৃত্যুর মতো ঘটনাগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবার ও সহপাঠীরা ন্যায়বিচার, স্বচ্ছ তদন্ত ও প্রশাসনিক জবাবদিহির দাবি জানালেও অনেক ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি ও দায় এড়ানোর সংস্কৃতি দেখা যায়। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও বেড়েছে।
মাদ্রাসাগুলোতে শিশু ও কিশোর শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত কয়েক বছরে একাধিক মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে, যা অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ধর্মীয় বা সাধারণ—কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই আইনের ঊর্ধ্বে নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাঈম আহমাদ বলেন, মাদ্রাসাসমূহকে কওমে লুতের অনুসারীমুক্ত করতে হবে এবং শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে আলেম-ওলামা ও সংশ্লিষ্টদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
জাতীয় ছাত্রমঞ্চের সদস্য সচিব আহনাফ আতিক বলেন, একটি সভ্য রাষ্ট্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কখনো ভয়ের জায়গা হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যকর যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল গঠন, অভিযোগ গ্রহণে স্বচ্ছ ব্যবস্থা, দ্রুত বিচার, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল প্রশাসনিক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, জাতীয় ছাত্রমঞ্চের ঘোষিত “৪র্থ দফা” দাবি হলো “জেন্ডার সেইফ ক্যাম্পাস” নিশ্চিত করা। এ দাবিতে তারা দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন জেডিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মাহতাব হোসেন সাব্বির, ইঞ্জিনিয়ার আয়মান আন্দালিব, জাতীয় ছাত্রমঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল কবির রিয়াদ, যুগ্ম সদস্যসচিব শাহরিয়ার নাদিম শান্ত এবং কেন্দ্রীয় সদস্য মো. মানিক।