০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৫৯

সাতক্ষীরায় জেলা কমিটি না থাকায় নিষ্ক্রিয় ছাত্রদল, সাংগঠনিক দাপট দেখাচ্ছে ছাত্রশিবির

ছাত্রদল-শিবিল লোগো  © টিডিসি সম্পাদিত

সাতক্ষীরায় দীর্ঘদিন জেলা কমিটি না থাকায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। দীর্ঘ ৬ বছরের পুরোনো কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব না আসায় মাঠ পর্যায়ে দলটির কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে জেলায় একক আধিপত্য ও সাংগঠনিক দাপট দেখাচ্ছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। ফলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৩ জুন শেখ সজিবুজ্জামান সজিবকে সভাপতি ও মমতাজুল ইসলাম চন্দনকে সাধারণ সম্পাদক করে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘ ৬ বছর পর ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় কমিটি বিলুপ্ত করা হলো এবং শীঘ্রই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার কয়েক ১ বছর ৬ মাস ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটি না আসায় সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলে এখন কোনো ‘চেইন অব কমান্ড’ নেই। পদপ্রত্যাশী নেতারা গ্রুপিংয়ে ব্যস্ত থাকায় রাজপথের কর্মসূচিতে ছাত্রদলের উপস্থিতি নগণ্য। অন্যদিকে, এই দীর্ঘ সময়ের সাংগঠনিক শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে সাতক্ষীরার শিক্ষাঙ্গণ ও রাজপথে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে ছাত্রশিবির। শিবিরের ধারাবাহিক কর্মসূচি এবং সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক উপস্থিতির সামনে ছাত্রদল বর্তমানে জেলায় পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হওয়ার পথে। তবে মাঝে মধ্যে শহর ছাত্রদলের কিছু জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ সংগঠনটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতাকর্মী জানান, জেলা কমিটির পদ পাওয়ার আশায় ডজনখানেক নেতা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চেষ্টা করছেন। এতে কেন্দ্রীয় বা বিভাগীয় পর্যায় থেকে ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এক নেতা বলেন, কাল কোন গ্রুপের ডাকে যাব, আর কোনটার ডাকে যাব না এটাই বুঝে উঠতে পারি না। কার ডাকে গেলে কে কষ্ট পাবেন, সেটা নিয়েই সারাক্ষণ ভাবনায় থাকতে হয়। আমরা চাই, দ্রুত জেলা কমিটি ঘোষণা হোক, যাতে সবাই এক ছাতার নিচে কাজ করতে পারি।

একজন সক্রিয় কর্মী জানান, জেলা পর্যায়ে কার্যকর নেতৃত্ব না থাকায় শহর ছাত্রদল ব্যতীত সাংগঠনিক তৎপরতা প্রায় নেই বললেই চলে। অন্যদিকে, একই সময়ে ছাত্রশিবির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করায় তাদের প্রভাব দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে।

তৃণমূলের কর্মীরা বলছেন, নেতৃত্ব না থাকায় কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছে, আর শিবিরের কর্মীরা মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। দ্রুত কমিটি না দিলে ছাত্রদলের ভিত্তি খুঁজে পাওয়া মুশকিল হবে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মঞ্জরুল আলম বাপ্পী বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা হামলা-মামলা মাথায় নিয়ে সংগঠনকে টিকিয়ে রেখেছেন এবং জামায়াতের ন্যারেটিভ মোকাবিলায় সক্ষম, তাদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব নির্বাচন করা উচিত।

তিনি বলেন, দ্রুত জেলা কমিটি ঘোষণা অত্যন্ত জরুরি। কমিটি থাকলে নেতৃত্ব স্পষ্ট হয়, দায়িত্ব বণ্টন হয় এবং কর্মীরা আরও সংগঠিতভাবে কাজ করতে পারে। এতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিও তৃণমূলে দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব। শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হান বলেন, জেলা কমিটি না থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে একধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্দেশনা অনুযায়ী সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছি। কিন্তু শক্তিশালী নেতৃত্বের অভাব স্পষ্ট। এই সুযোগে প্রতিপক্ষ বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে, যা সংগঠনের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলছে। দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করা হলে নেতৃত্ব সুসংহত হবে, কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে এবং সংগঠনটি আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এবং দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলমের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।