২৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৯

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা সেই আহ্বায়ককে অব্যাহতি দিল ছাত্রদল

মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দিল গ্রামবাসী  © সংগৃহীত

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় বাংলদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মুক্তার হোসেনকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি কলেজ সংলগ্ন চরআলগী মৌজায় এ ঘটনার পর শুক্রবার (২৭ মার্চ) তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলমেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা শাখার অধীনস্থ গফরগাঁও উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মো. মুক্তার হোসেনকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।

এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

এর আগে সংঘর্ষের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ১১টি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি কলেজ সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে জেগে ওঠা চরটি চরআলগী মৌজার বাসিন্দাদের মালিকানাধীন। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হয়ে আসছিল। এ নিয়ে আগে একাধিকবার উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেনের অনুসারীরা চরআলগী মৌজায় সাত্তার, বাবুল ও সাদেক নামে কয়েকজনের জমিতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে। এ সময় জমির মালিকরা বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে মুক্তার হোসেনের শতাধিক অনুসারী ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে স্থানীয় নৌকার মাঝি ওয়াইজ উদ্দিন ওরফে পাবলিককে মারধর করে এবং তার নৌকায় আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে মাঝি নদী সাঁতরে গিয়ে বিষয়টি জানালে গ্রামবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

একপর্যায়ে গ্রামবাসীর ধাওয়ায় প্রতিপক্ষ মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে সরকারি কলেজের সামনে সড়কে ফেলে রাখা ১১টি মোটরসাইকেলে আগুন দেয় উত্তেজিত জনতা। ঘটনার পর এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে গফরগাঁও উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘বুধবার উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মুক্তার হোসেন তার দলবল নিয়ে সরকারি কলেজ এলাকায় বালুর ঘাট দখল করতে যান। এ সময় স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে তিনি দলবল নিয়ে ফিরে আসেন। 

বৃহস্পতিবার মুক্তার হোসেন বিশাল মোটরসাইকেল বহর নিয়ে আবারও ঘাট দখল করতে যান। এ সময় তিনি এক নৌকার মাঝিকে পিটিয়ে আহত করেন এবং নৌকায় আগুন দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে তাকে এবং তার সহযোগীদের ধাওয়া করেন।’

জেলা যুবদলের নেতা আবদুল আজিজ সাদেক বলেন, ‘বালুর ঘাট দখল নিয়ে ছাত্রদল নেতা মুক্তার হোসেনের সঙ্গে এলাকাবাসীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে বলে শুনেছি।’ 

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাস বলেন, চরআলগী এলাকায় বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। চরের লোকজন ও এপারের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারা জড়িত তা তদন্ত করে জানা যাবে। অভিযোগ পেলে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ ময়মনসিংহের একই উপজেলাধীন টাঙ্গাবর ইউনিয়েনর তললী গ্রামে বালু তোলা নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মেহেদি হাসান রাকিব (২৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছিল। গুলিবিদ্ধ হয়েছিল আরও একজন।  সে সময় পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানিয়েছিল, মো. ইয়াসিন ও নিহত মেহেদি হাসান রাকিবের সাথে বালু উত্তোলন নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল।