০৩ মার্চ ২০২৬, ১৬:২১

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীর ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাবি শিবিরের বিক্ষোভ

রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ঢাবি ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ  © টিডিসি

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবিরের ওপর ছাত্রদলের হামলার এবং ক্যাম্পাসে গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা আড়াইটায় বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর থেকে শুরু করে হলপাড়া ও কলা ভবন হয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এ সময় তারা ‘পলিটেকনিক্যালে হামলা কেন, ছাত্রদল জবাব দে’, ‘সন্ত্রাসী আর করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’, ‘সন্ত্রাসীরা দেইখা যা, আইছে তোদের বাপেরা’, ‘ইসলামী ছাত্রশিবির, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়।

এ সময় ঢাবি ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসাইন খান বলেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের ইতিহাসে এক নৃশংস ঘটনা ঘটে গেছে। আমরা দেখেছি ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণরুম দখল করা, গণরুম কালচার যে রাজনীতিকে ছাত্রসমাজ লাল কার্ড দেখিয়েছে। ক্ষমতায় আসার পরপরই একটি সন্ত্রাসী ছাত্রদল গতকাল ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ হামলা করার মাধ্যমে সেই হল দখল করার রাজনীতি নতুন করে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, এই রাজনীতি ছিল ছাত্রলীগের রাজনীতি। ১৭ বছর এই রাজনীতি করে টিকতে পারে নাই। আজকে যারা ক্ষমতায় আসার পরপরই সেই রাজনীতি করার স্বপ্ন দেখছে, তাদেরকে গোটা দেশের ছাত্রসমাজ লাল কার্ড দেখাবে।’

ঢাবি ইসলামী ছাত্রশিবির সেক্রেটারি কাজী আশিক বলেন, ‘আজ পবিত্র রমজান মাসে রোজা রেখে আমাদেরকে রাজপথে নেমে আন্দোলন করতে হচ্ছে। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়, রমজান মাসে শয়তান ছুটিতে থাকলেও ছাত্রদল কিন্তু রয়ে গেছে। শয়তানের রেখে যাওয়া দায়িত্ব ছাত্রদল সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে আঞ্জাম দিচ্ছে। আমরা ছাত্রদলকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, হল দখলের রাজনীতি, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী রাজনীতি ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই বাংলাদেশ থেকে বিদায় হয়েছে। নতুন করে এই চাদাবাজি আর সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার দুঃসাহস দেখাবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্ষমতায় এসেই মব জাস্টিসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। আমরা একে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক থাকে, সেই রাষ্ট্রের মানুষকে রাস্তায় নামতে হয় না। ছাত্রদলের পান্ডারা হলের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ না করলে এর প্রতিবাদে যদি আমরা রাস্তায় নামি, সেগুলোকে আপনি মব জাস্টিস বলে এই ভণ্ডামি বন্ধ করুন।’

এ সয়ম ঢাবি ইসলামী ছাত্রশিবির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘গতকাল রাতে পবিত্র রমজান মাসে আমরা দেখতে পেয়েছি ঢাকা পলিটেকনিকে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে যে শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাসে অবস্থান করছিল তাদের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে। যারা ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের দেখানো রাস্তায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তাদের পরিণতিও ঠিক আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের মতোই হতে চলছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রতিটি জেলায় জেলায় আওয়ামী লীগের অফিস নতুন করে খুলে দেওয়া হচ্ছে। আমরা মনে করি, ছাত্রলীগের সঙ্গে ছাত্রদল আঁতাত করে আবার তারা ক্যাম্পাসে আগের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ’২৪-এর জুলাই-আগস্টের মধ্য দিয়ে আমরা প্রমাণ করেছি এই ক্যাম্পাসে নতুন করে কোনো দখলদারিত্বের সুযোগ আমরা রাখব না। ছাত্রদল নিজেদের ভেতরে মারামারি করত, খুনোখুনি করত। কিন্তু পরবর্তীতে দেখলাম নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে তারা সারাদেশের বিরোধী মতের ওপর চড়াও হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করলে কী ধরনের পরিণতি হয়, সেই পরিণতি সম্পর্কে খুনি হাসিনা অবশ্যই অবগত আছে, আমরা আশা করছি আপনারাও অবগত আছেন।’