শিশুকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যাচেষ্টা, সুশীল সমাজের কোনো আওয়াজ শুনতে পাচ্ছেন— প্রশ্ন ডাকসু জিএসের
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের পাহাড়ি এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ‘সুশীল সমাজের’ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ। এই ঘটনায় ‘হয়তো’ কোনো বিচার পাওয়া যাবে না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
আজ সোমবার (২ মার্চ) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে এসএম ফরহাদ এসব কথা লিখেছেন।
ডাকসু জিএস ভুক্তভোগী শিশুর ছবি যুক্ত করে লিখেছেন, ছোট্ট নিষ্পাপ মেয়েটার জামার রং লাল নয়; কাটা গলা তথা ধর্ষকের কাটা শ্বাসনালি থেকে গড়িয়ে পড়া রক্তে পুরো শরীর লাল বর্ণ ধারণ করেছে। ধর্ষক নিষ্পাপ শিশুটাকে গলা কেটে জঙ্গলে রেখে চলে গেছে; ভেবেছে হয়তো মারা যাবে। মেয়েটা কাটা গলা নিয়েই হেঁটে হেঁটে বহু দূরে গিয়ে স্থানীয় শ্রমিকদের নজরে আসে। তারা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই শিশুটাও হয়তো আল্লাহর কাছে চলে যাবে। এবারও আমরা কোনো দৃশ্যমান বিচার দেখতে পাব না; বরং হয়তো কোনো নেতা এসে হুকুম জারি করে বলবে, ‘দুর্ঘটনা, মাইনা নাও।’
তিনি লিখেছেন, মেয়েটা হেঁটে হেঁটে না এলে হয়তো পরশুদিনের ঢাকার ঘটনার মত বেওয়ারিশ কাটা লাশ পাওয়া যেত; তখনও সবাই চুপ থাকত, যেন কিছুই ঘটেনি! সুশীল সমাজের কোনো আওয়াজ শুনতে পাচ্ছেন? দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অব্যাহত অবনতিতে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদমুখর পরিচিত মুখগুলোর কোনো প্রতিবাদ দেখতে পেয়েছেন? কিংবা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কোনো সক্রিয় ভূমিকা দেখেছেন?
তিনি আরও লিখেছেন, শুধু এখন নয়; আগামীতেও দেখবেন, সিলেক্টিভ ইস্যুতে তারা বেশ সরব। উপরওয়ালাদের অ্যাসাইনড এজেন্ডার বাইরে কিছু ঘটলে তারা একেবারে নিশ্চল, যেন কিছুই ঘটেনি। অথবা যেন তাদের চোখ এখন আর দেখে না, ভিকটিমদের কাতর কণ্ঠ যেন তাদের কান শোনে না। আশপাশের প্রাণগুলোতে আসলেই যেন কোনো প্রাণ নেই। কত দুর্ভাগ্য আমাদের!