শাবিপ্রবিতে ছাত্রশিবিরের দুই দিনব্যাপী প্রকাশনা ও নববর্ষ উৎসব
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখার উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী প্রকাশনা ও নববর্ষ উৎসব শুরু হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে শুরু হওয়া এ উৎসব চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জুনতলার পাশে বসেছে এ প্রকাশনা উৎসবের স্টল। সেখানে দুটি স্টল করা হয়েছে। ছাত্রদের জন্য ‘শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি’ স্টল ও ছাত্রীদের জন্য ‘শহীদ আবরার ফাহাদ’ স্টল।
স্টলগুলোতে জুলাই বিপ্লব নিয়ে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের লেখা বই, ছাত্রশিবিরের তিন পৃষ্ঠার ক্যালেন্ডার, ছোট-বড় তিন ধরনের ডায়েরি, বড় ও ছোটদের জন্য শিক্ষামূলক ও ইসলামিক বইসহ প্রায় ২৯ ধরনের প্রকাশনা সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে। স্টলে ক্ষণেক্ষণে ভিড় জমাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। কেউ প্রকাশনা সামগ্রী ঘেঁটে দেখছেন, আবার কেউ নিজের বা প্রিয়জনের জন্য কিনে নিচ্ছেন।
প্রকাশনা উৎসবে এসে কিছু বই কিনেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আতিফ আহমেদ। তিনি ছাত্রশিবিরকে এমন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমরা বিগত সময়ে এমন আয়োজন দেখিনি। বর্তমান সময়ে এ রকম আয়োজন দরকার। বইমেলা আগেও হয়েছে, কিন্তু এ ধরনের প্রোগ্রাম হয়নি। আমাদের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি মুসলিম হিসেবে ইসলামী বই পড়া জরুরি। এখানে সমসাময়িক সময়ে ইসলাম নিয়ে দারুণ কিছু বই এসেছে। আমি কয়েকটি বই কিনেছি।’
আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রশিবির একটি গতিশীল সংগঠন। প্রতি বছর নববর্ষ উপলক্ষে আমরা প্রকাশনা প্রকাশ করি। আমাদের বার্তা হচ্ছে—ছাত্ররাজনীতির পুরোনো ধারা থেকে বের হয়ে ক্যারিয়ারভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি গড়ে তোলা। সেই প্রত্যাশা থেকেই আমাদের এ আয়োজন। এ ধরনের গঠনমূলক কার্যক্রম আমরা সব সময় করে আসছি এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখব।’
শিক্ষার্থীদের সাড়া পাওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো সাড়া পাচ্ছি। ক্লাসের ফাঁকে শিক্ষার্থীরা আসছেন, প্রকাশনা কিনছেন। আমাদের পক্ষ থেকে কিছু উপহারও দেওয়া হচ্ছে। উপহারের মধ্যে রয়েছে রমাদান প্ল্যানার ও ক্যালেন্ডার। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে জুলাই আন্দোলন নিয়ে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের লেখা ‘জুলাই স্মৃতি’ বই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের তিন পাতার ক্যালেন্ডারে জুলাই ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ফিচার তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া শিবিরের সিলেবাসভিত্তিক সাহিত্য, রমাদান পরিকল্পনা ও নিজস্ব প্রকাশনীর বইও রয়েছে।’