সেই শাহীন লিখলেন— ‘সত্যায়িত করতে গিয়ে খুব অপদস্থ হয়েছিলাম’
শাহীন আলম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০১২–১৩ সেশনের শিক্ষার্থী এবং হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র। ২০২১ সালে বেকারত্বের কারণে তার প্রেমিকা তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এরপর অভিমানে প্রেমিকার ফেরত দেওয়া উপহারগুলো পুড়িয়ে সেই ভিডিও নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আপলোড করেন শাহীন। যা নিয়ে সে সময় বেশ আলোচনা হয়।
সেই শাহীন এখন বিসিএস ক্যাডার। ৪৪তম বিসিএসের মাধ্যমে গত ১ মার্চ যোগদান করেছেনর সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক হিসেবে। শাহীন লিখেছেন, উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়নরত অবস্থায় এক ভেটেরিনারি সার্জনের কাছে সার্টিফিকেটের ফটোকপি সত্যায়িত করতে গিয়ে চরম অপদস্থ হওয়ার গল্প। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে শাহীন আলম শিক্ষা জীবনে সত্যায়িত করতে গিয়ে চরম অপমান ও ভোগান্তির শিকার হওয়া নিয়ে ফেসবুকে স্মৃতিচারণ করে একটি পোস্ট দেন।
শাহীন লিখেন, ইন্টারমিডিয়েটে থাকাকালে আমার উপজেলার তৎকালীন ভেটেরিনারি সার্জনের কাছে সার্টিফিকেট সত্যায়িত করতে গিয়ে খুব অপদস্থ আর অসম্মানের শিকার হয়েছিলাম। সেই অপমান এখনো ভুলতে পারিনি, হয়তো কখনোও পারবো না! অথচ, সময়ের আবর্তে অপদস্ত হওয়া সেই আমিই আজ সত্যায়িত করার সুযোগ ও দায়িত্ব পেয়েছি। এটাকেই বলে বিধাতার লীলা। তাই কাউকে কখনো ছোট করে দেখা উচিত না। কারণ কাকে, কোথায়, কখন, কোন অবস্থানে নিয়ে যাবে একমাত্র বিধাতাই ভালো জানে।
যদিও বর্তমান ডিজিটাল যুগে সত্যায়িত নামক এই উদ্ভট নিয়মের কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না এবং এই প্রথা রহিত করে চাকরিপ্রার্থী ও ছাত্র-ছাত্রীদের হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়ার জোর দাবি জানাই। তবুও, যতদিন এই নিয়ম আছে, জনগণকে সেবা দিতে সর্বদা প্রস্তুত আছি।
প্রিয় অনুজ বা পরিচিত কারও যদি সত্যায়িত করার প্রয়োজন হয়, নির্দ্বিধায় চলে আসতে পারেন আমার কাছে। সত্যায়িত করার পাশাপাশি চা খাওয়ার দাওয়াত রইলো। আর আমি যেখানেই থাকি না কেন, আপনাদের জন্য ব্যাগে সব সময় একটা সিল রাখবো, ইনশাআল্লাহ্।